সেইভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জম হোসেন রিয়াদ ,হাসান মাহমুদের ভাগনি জামাই, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদকের বড় ভাই, বনের লেনদেন তিনিই করতেন, গড়েছেন ভাল্লুক পাচার সিন্ডিকেট
ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগের বিনা ভোটের মন্ত্রী হাসান মাহমুদের মন্ত্রিত্ব চলে গেলেও তার তৈরি করা সিন্ডিকেট এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে।
‘সেইভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশ’ নামক একটি প্রাণী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ। বুধবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে উক্ত সংগঠনের আয়োজনে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন এর আয়োজন করেন ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ। সেখানে উপস্থিত বেশ কিছু সাংবাদিক ও দুটি সংস্থার নজরে আসে ‘সেইভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জম হোসেন রিয়াদ কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করলে প্রথম অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। ঐ সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন শেষে মানববন্ধনের কর্মসূচি থাকলেও সেটি না করে তড়িঘড়ি করে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ ও সংগঠনের অন্য নেতারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘সেইভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশ’ সংগঠনটির চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ কক্সবাজার জেলার খুরুশকুল এলাকার অন্তর্গত রুমালিয়ার ছড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম স ম নুরুন্নবী। তার ছোট ভাই তামিম (বর্তমানে পলাতক) নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কক্সবাজার জেলা শাখার সেক্রেটারি। মোয়াজেম হোসেন নিজেকে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের আত্মীয় বলে সবাইকে পরিচয় দিতেন এবং সে হাসান মাহমুদের বোনের মেয়েকে বিয়ে করেছে বলেও দাবি করতেন। অথচ সংবাদ সম্মেলনের প্রেস নোটে বিগত আওয়ামী সরকারকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে এই মোয়াজ্জেম।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, ‘দল ক্ষমতা থাকা অবস্থায় সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা সে, তার ভাই এবং পরিবারও নিয়েছে। অথচ এখন ভোল পাল্টে ‘সেইভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশ’ সংগঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করছে। দলের প্রায় প্রতিটা নেতা-কর্মী যেখানে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে সে কিভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরার পাশাপাশি বিলাসী জীবন যাপন করছে তা আমার বোধগম্য নয়। এইসব ভোল পাল্টানো ও সুবিধাবাদীদের কারণে আজ দলের এই অবস্থা।
এই সংবাদ সম্মেলনে মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেটি অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলে তার কোন যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য উত্তর তিনি দিতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে মোয়াজ্জেম চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন। কিন্তু তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সেপ্টেম্বর মাসে কর্মস্থলে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর মোল্লা রেজাউল করিম তার দপ্তরে বিগত সরকারের সময় অবৈধভাবে নানা সুযোগ প্রাপ্ত, অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়া মোল্লা রেজাউল করিম যোগদানের পরে তিনি বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও তার ভাইদের জবরদখলে থাকা ৩৫৪ একর বনভূমি ও গড়ে তোলা গয়ালের ফার্ম, পোল্ট্রি ফার্ম, ফিসারী উচ্ছেদ করে সরকারি বনভূমি জবরদখল মুক্ত করেন। তিনি কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ৭০০০ একর জবরদখল কৃত বনভূমি উদ্ধার করেন। মোল্লা রেজাউল বিগত ছয় মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার অবৈধ ঘরবাড়ি ভেঙে বনভূমি মুক্ত করেন। ফলে ওই মহলটি তার
বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পাশাপাশি চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামে কর্মরত এক বন কর্মকর্তা বলেন, ‘দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় যাবৎ একটি মাফিয়া সিন্ডিকেট কোনরকম রাখ ঢাক না রেখেই প্রকাশ্যে বন কার্যালয়ের বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চালিয়ে আসছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর মোল্লা রেজাউল করিম স্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেই ওই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হন। ফলশ্রুতিতে ওই সিন্ডিকেটের লোকজন মোল্লা রেজাউল করিম স্যারের বিরুদ্ধে নানা কাল্পনিক অভিযোগ আনয়নসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটনা করে আসছে।’
খোদ প্রেসক্লাবের মত জায়গায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্রগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহবায়ক সমন্বয়ক রিদওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘অবিলম্বে এই মোয়াজ্জেম হোসেনকে আইনের আওতায় আনা হোক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিতারিত শক্তি নিজেদের অস্তিত্বে টিকিয়ে রাখার জন্য এখন নানা সংগঠনের ব্যানারে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে এসব পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।’
##
তিনি হাসান মাহমুদের ভাগনি জামাই, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদকের বড় ভাই, বনের লেনদেন তিনিই করতেন, গড়েছেন ভাল্লুক পাচার সিন্ডিকেটও
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগের বিনা ভোটের মন্ত্রী হাসান মাহমুদের মন্ত্রিত্ব চলে গেলেও তার তৈরি করা সিন্ডিকেট এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে।
বন বিভাগের বিভিন্ন তদবির, বদলি বাণিজ্য এবং বনের জমি দখল ও বিক্রি—এসব কার্যক্রম এখনো হাসান মাহমুদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। কক্সবাজারের যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম রিয়াদ তাদেরই একজন, যিনি বিগত ১৬ বছর ধরে হাসান মাহমুদের ভাগ্নি জামাই পরিচয়ে বনের জমি দখল, বিট থেকে চাঁদা আদায়, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং এখনো রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বন বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডাররা এবং স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা মিলে বিশাল একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। মোয়াজ্জেম রিয়াদ, যিনি এক সময় ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এবং হাসান মাহমুদের ভাগ্নি জামাই এবং কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসাইন তানিমের বড় ভাই হওয়ায়, এই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বনের অভ্যন্তরের তদবির ও টেন্ডার বাণিজ্য গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, বন কর্মকর্তাদের বদলি বাণিজ্যে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যেখানে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হতো।
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ জমি দখল হয়ে গেছে, যার অধিকাংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়েছে। এসব দখলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মোয়াজ্জেম রিয়াদের মতো আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা। অভিযোগ রয়েছে, বিগত ১৬ বছরে বন বিভাগের প্রতিটি বিট, রেঞ্জ ও ডিভিশন থেকে মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেছেন মোয়াজ্জেম রিয়াদ। উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, রামু, চকরিয়া এবং ঈদগাহ উপজেলায় বন বিভাগের বহু জমি পান বরজ, আবাসন প্রকল্প ইত্যাদি হিসেবে দখল করেছেন তিনি ও তার সহযোগীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, তাদের উপর হামলা ও হয়রানি চালানো হয়েছে।
শুধু তাই নয়, হাসান মাহমুদের ‘সুখী বাংলা’ নামে একটি এনজিওর নাম ভাঙিয়ে তিনি শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বন বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও তিনি কমিশন নিতেন বলে জানা গেছে।
জুলাইয়ের গণআন্দোলন শুরু হলে মোয়াজ্জেম রিয়াদের নেতৃত্বে ২৯ ও ৩০ জুলাই এবং ৩ ও ৪ আগস্ট মুক্তিকামী ছাত্রজনতার ওপর ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটে। তার নেতৃত্বে সশস্ত্র ক্যাডাররা সাধারণ ছাত্রদের মারধর ও অপহরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এখনো পর্যন্ত মোয়াজ্জেম রিয়াদ গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের ছাত্রজনতা। তারা অবিলম্বে মোয়াজ্জেম রিয়াদ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারসহ তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তদন্তপূর্বক বাজেয়াপ্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, মোয়াজ্জেম রিয়াদের বিরুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভারতে ভাল্লুক পাচারের অভিযোগও রয়েছে। ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার এক পাচারকারী (নিতাই মন্ডল, ছদ্মনাম) জানান, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে ভাল্লুক এবং জীবিত হনুমান সংগ্রহ করি মোয়াজ্জেম রিয়াদ ও আরও কিছু সরবরাহকারীর মাধ্যমে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা আমাদের জীবিত বন্যপ্রাণী সরবরাহ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোয়াজ্জেম রিয়াদ ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশের ক্যাপটিভ ব্রিডিং ফ্যাসিলিটিগুলো থেকেই এসব প্রাণী আমাদের সরবরাহ করে।’
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী বিশেষ করে ভাল্লুক ও বানরের কোনো ব্রিডিং ফ্যাসিলিটি নেই এবং সরকার কোনো ধরনের বন্যপ্রাণী বিক্রির অনুমতিও দেয় না।
এছাড়াও, মোয়াজ্জেম রিয়াদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সাথে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে শুধু বন্যপ্রাণী নয়, বিভিন্ন মূল্যবান কাঠ, এমনকি মানুষের পাচারের সাথেও তার নাম জড়িত বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, তার সিন্ডিকেটের লোকেরা নিরীহ মানুষকে বিদেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করেছে।
বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাগরপথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচারের অন্যতম হোতা হিসেবেও মোয়াজ্জেম রিয়াদের নাম উঠে এসেছে। তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে মানবপাচার সিন্ডিকেটের সাথে সরাসরি যুক্ত। এছাড়া, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর জঙ্গলে বিশাল এলাকাজুড়ে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে পুনর্বাসিত করার কাজও তিনে করেছেন এবং তাদের দিয়ে পাহাড়ি পথে চোরাচালান পরিচালনার কাজও তিনি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নামক একটি মূল দ্বারার সংগঠনে নিজেকে সংযুক্ত করে তার আওয়ামী তকমা মোচার চেস্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে মোয়াজ্জেম রিয়াদ এখন বিভিন্ন তদবির এবং উপডৌকনের মাধ্যমে বাংলা এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে জনমনে নানা বিরুপ মন্তব্য প্রকাশ পাচ্ছে।
এই বিষয়ে মোয়াজ্জেম রিয়াদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি





