জনউপস্থিতিতে ১ম স্থানে রয়েছে খলিলনগর ইউনিয়ন : জাগরণ বার্তার জরিপ
খলিলনগর ইউনিয়নের মাটি, বিএনপির ঘাঁটি। ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে হাজারো জনতার স্বতঃফুর্ত অংশগ্রহন নিশ্চিত করে উক্ত কথাটির যর্থাথ আবারো প্রমাণ করলো খলিলনগরবাসি। শনিবার (২৭সেপ্টেম্বর) বিকালে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মধ্যে দিয়েই শেষ হলো তালা উপজেলা বিএনপির ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, আজকের উপস্থিতিতিই প্রমান করে খলিলনগরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ । এ ইউনিয়নটি ছিল আমার রিজার্ভ ভোট ব্যাংক। সবগুলো ইউনিয়নের ভিতর এই ইউনিয়নটি আমি আমার নিজের মনে করি। আজকের জনউপস্থিতি আমার সেই ভালবাসার প্রতিফলন মাত্র । এসময় তিনি আরও বলেন, যখন ক্ষমতায় ছিলাম মন উজাড় করে করেছি। কারো সাথে অন্যায় করেনি । শত বেকারকে ফ্রিতে চাকুরীর ব্যবস্থা করেছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও করেছি, রাস্তাঘাট অফিসের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছি। কোথাও দূর্নীতি করেনি বুক উচিয়ে বলতে পারি । তালা কলারোয়াবাসির সেবা করা আমার স্বপ্ন । শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তালা কলারোয়াবাসির সেবা করে যাবো (ইনশাআল্লাহ)।
এদিন খলিলনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন কানায় কানায় পূর্ণ জনউপস্থিতির কারণে রীতিমতো মহাসমাবেশের আকার ধারণ করে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে জনগণের উপস্থিতি নিশ্চিতের পাশাপাশি মঞ্চ-প্যান্ডেলের সাজসজ্জাও নেতাকর্মীদের শৃংখলা ছিল চোখে পড়ার মত। এক কথায় বলতে গেলে একটি অনুষ্ঠানকে সফল ও সার্থক করতে যে উপাদানগুলোর প্রয়োজন তার কোনটিরই কমতি রাখেনি আয়োজকরা।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে সম্মেলন স্থলে এক প্রাকৃতিক স্তবধতার সৃষ্টি হয় যখন প্রধান অতিথি কমিটির সভাপতি হিসেবে আছির উদ্দীনের নাম ঘোষনা করেন। পরক্ষণেই হাবিবুল ইসলাম হাবিবের আহ্বানে উপস্থিত সকলেই করতালি দিয়ে প্রবীন রাজনীতিবিদ আছির উদ্দীনকে স্বাগত জানান।
তবে স্তবধতার কারণ খুজতে গিয়ে জানাগেছে, সভাপতি আছির উদ্দিন গাজী একজন স্বশিক্ষিত ও ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কারণে বেশিরভাগ সময় থাকেন পাশ্ববর্তী পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজারে। দলের দুঃসময়ে তার থেকেই অপেক্ষাকৃত বেশী ত্যাগী, নির্যাতিত ও নেতাকর্র্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখা নেতৃত্বকে অন্য পদে রেখে তাকে সভাপতি করা অনেকের বুকে পাথর চাপা দিয়ে মেনে নিতে হয়েছে ।
তবে ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী পর্যায়ের অনেকে বলেছেন, বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় আছির উদ্দীন গাজী অনেক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেটিকে কাজে লাগিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খলিলনগর ইউনিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ভোট ধানের শীষে পড়বে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে, এই কমিটির সাধারন সম্পাদক মাষ্টার শাহাদাৎ হোসেন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুল হানানের প্রশাংসা করে তারা বলেন, তাদের মত নেতৃত্ব পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার । তারা দুজন দুঃসময়ে যে ভ‚মিকা পালন করেছেন তা অকল্পনীয় ।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, বিএনপি, ধানের শীষ আর হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রশ্নে আপোষহীন খলিলনগর ইউনিয়ন বিএনপি । নেতৃত্বে যেই আসুক দলের প্রশ্নে খলিলনগর ইউনিয়ন বিএনপি সর্বদা ঐক্যবদ্ধ ও অবিচ্ছেদ্য । তার অন্যতম কারণ হিসেবে নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব কখনো তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করেনা। তিনি যেমন উপজেলার পদধারী সিনিয়র নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন, ঠিক তেমনি যোগাযোগ রাখেন পদহীন ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মীদের সাথেও। তাই হাবিবেই শতভাগ আস্থা রয়েছে খলিলনগর বিএনপির।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক আবুল হাসান হাদী, তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃনাল কান্তি রায়, সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, এম মফিদুল হক লিটু প্রমুখ ।
কমিটির অন্যন্যরা হলেন, সিনিয়র সহ সভাপতি ঢালী মোসলেম উদ্দীন, সাধারন সম্পাদক মাষ্টার শাহাদাৎ হোসেন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুল হানান, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ।
##





