তালায় বিএনপির আনন্দ মিছিল
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৪৪ আসামীকে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়ায় তালায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তালা বাজারে এ আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি।
মিছিলটি ডাকবাংলো থেকে শুরু হয়ে তালা বাজারে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তালা জনতার ব্যাংকের নিচে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় শেষ হয়। মিছিল শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সমাপনী বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবু মৃনাল কান্তি রায়।
এসময় অন্যন্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক্ষ শফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এম এম মারুফ উল ইসলাম, তালা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মির্জা আতিয়ার রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাঈদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আবুল কালাম, জাসাসের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, সদস্য সচিব রাসেল বিশ্বাস, ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব এসকে ফারুক হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হোসেন জুয়েল, তালা সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ হোসেন সাগর, সাবেক সভাপতি রিপন ইসলাম, ছাত্রদলনেতা তুহিন রিয়াদ, তাশরিফ, জাফর হোসেন, রিপন হোসেন প্রমুখ ।
উক্ত আনন্দ মিছিলে তালা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিত স্ত্রীকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখতে যান। পরবর্তীতে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শেখ হাসিনার গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া, বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং অস্ত্র আইনে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
সেই মামলায় তৎকালীন সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরার জনপ্রিয় বিএনপি নেতা এবং ঘটনার সময় ঢাকায় অবস্থানরত হাবিবুল ইসলামকে হাবিবকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে কলারোয়ার আওয়ামীলীগ নেতা প্রয়াত মোসলেম উদ্দীন । সে সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঐ ঘটনায় সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কোন সম্পৃক্ত পাওয়া যায়নি বলে রিপোর্ট প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন আদালত ঘুরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য হয়।
এবিষয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, ২০০২ সালে কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার ১২ বছর পর কলারোয়া থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে পৃথক তিনটি চার্জশীট দাখিল করেন। যার প্রেক্ষিতে আদালত সাবেক এমপি হাবিবসহ ৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। এর মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবকে সর্বোচ্চ ৭০ বছরের সাজা প্রদান করে আদালত।
##