সাতক্ষীরা তালায় মরা ছাগল জবাই করে বাজারে বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিগত ১৯ নভেম্বর বুধবার রাত ৯ টায় তালার পল্লীতে মরা মা-ছাগল জবাই করে পরের দিন সকালে বিক্রয় করেন কসাই সোহাগ বাবু।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তালা উপজেলা সদর মোবারকপুর গ্রামের মৃত আবু তালেব সানার ছেলে সজল সানার দুটি ছাগল জ্বরা কলেরা রোগে মারাত্মক আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা ছাগলটি মারা যায়। মা- ছাগলটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে ৩/৪ দিন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মা- ছাগলটার মৃত্যুর খবর শুনে সজল সানার বাড়িতে মোবারকপুর গ্রামের মাজিদ সরদার এর ছেলে তালা বাজারের ছাগল কসাই সোহাগ বাবু রাতে এসে হাজির হয়। সোহাগ বাবু দীর্ঘদিন সফলতার সাথে সুকৌশলে অধিক মুনাফা লাভে মরা ছাগল অল্প টাকায় ক্রয় করে তালা বাজারে বিক্রয় করে আসছেন। তিনি ছাগলটি ৩ হাজার টাকা মূল্যে সজলের নিকট থেকে ক্রয় করে জবাই করে ছিলে কুটে নিয়ে যায়। পরের দিন সকালে তালা বাজারে বিক্রয় করে।এ সময় উপজেলাসহ আশপাশ এলাকায় ছাগলের গায়ে ফোঁড়া, গলা ফোলাসহ বিভিন্ন রোগ বিস্তার লাভ করছে। এই সময়ে আক্রান্ত পশু কেউ কেউ স্বল্পমূল্যেও বিক্রি করছে। রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস বিক্রির বিষয়টি তদারকি করা প্রয়োজন বলে মনে করে স্থানীয় সচেতন মহল! নিয়ম অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র নিয়ে পশু জবাই করার কথা। তবে এ বিষয়ে কারো কোনো তৎপরতা নেই। ফলে সাধারণ ক্রেতারা মাংস কিনে নিলেও মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় ওহিদুল ও হাফিজুল, জহিরুল বলেন, কসাই সোহাগ বাবু সজলের মরা মা-ছাগলটি নিয়ে তালা বাজারে বিক্রয় করেছে। শুধু এই নয় তিনি খাসি ছাগলের মাংসের দামে মা-ছাগলের মাংস বিক্রয় করে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। আর দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তা বাবুদের মোটা অংকে ম্যানেজ করছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরাসহ সাধারণ মানুষ। বাজারের আশপাশ এলাকায় পশু জবাই করলে রোগব্যাধী আছে কি না তা দেখার কেউ নেই! প্রতিদিন ভোর রাতে কসাইরা গরু ছাগল যেখানে-সেখানে জবাই করে বাজারে গোস্ত নিয়ে বিক্রি করে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ছাগল কসাই সোহাগ বাবুর গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় ছাগল মালিক সজল সানা এর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি আমার চাচাতো বোনের কাছ থেকে পোষানী নিয়ে ছাগল পুষি।কিন্তু ছাগল দুইটা মারাত্মক অসুস্থ ছিল, আমি তরিকুল ডাক্তারকে দেখিয়েছি। চিকিৎসা নেওয়া অবস্থায় বাচ্চা ছাগলটি মারা যায়। আর মা-ছাগলকে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক খাওয়ায় ছিলাম। ৩/৪ দিন পরে মা-ছাগলটি মারা যায়। পরে তালা বাজারের কসাই সোহাগ বাবু আমার বাড়িতে রাতে এসে জোর করে ছাগলটি ৩ হাজার টাকা দাম দেবে বলে নগদ ২ হাজার টাকা দিয়ে ছাগলটি জবাই দিয়ে কেটেকুটে নিয়ে যায়। আমি গরিব মানুষ জোন খেটে খায় সোহাগ বাবু আমার বাকী ১ হাজার টাকা এখনো দেয়নি।এ ঘটনায় তালা বাজারের কসাই সোহাগ বাবুর সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি এ বিষয় অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোঃ খায়রুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান, পশু জীবিত থাকাকালীন সময় দেখভালের দায়িত্বে থাকেন প্রাণী সম্পদ কর্তৃপক্ষ। মাংস খাটে উঠানোর পরে আমরা দেখি। মরা ছাগলের মাংস বাজারে বিক্রয়ের বিষয় জানালে তিনি বলেন, একটি উপজেলায় একা আমি কয়টা বাজার দেখব। আমার সিডিউল অনুযায়ী চলতে হয়। আপনি বললেন আমি আগামীকাল সকালেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুম বিল্লাহ সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি এ প্রতিবেদকে জানান, আমি শুনেছি, তালার সোহাগ বাবু নামের কসাই অসুস্থ ছাগল জবাই করে বাজারে বিক্রয় করছে। আমার পর্যাপ্ত জনবল নাই। গরুর ক্ষেত্রে আমরা রাতে সার্টিফিকেট দিই সকালে হুজুর দিয়ে জবাই করে। কিন্তু ছাগলের ক্ষেত্রে এখনো শুরু করা হয়নি। আমরা খুব দ্রুতই ছাগলের বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।
##





