বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মুহুর্ত আছে, যা সময়ের ব্যবধান ছাড়িয়ে এক অপূর্ব আবেগ তৈরি করে। এমন সময় এসে পড়ে যখন রাজনীতি, দলমত, মতাদর্শ সবকিছু থেমে যায়, আর ওঠে আসে মানুষের নিখাদ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রার্থনার এক অচেনা ঢেউ। আজ তেমনি এক অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। এই অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া- একজন নারী, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুধু নেতৃত্ব দেননি, বরং হয়ে ওঠেছিলেন দেশের মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক, দৃঢ়তায় মোড়া এক মাতৃশক্তির প্রতিচ্ছবি।
জিয়াউর রহমান থেকে শুরু ভালোবাসার ইতিহাস
বাংলাদেশের মানুষ তাদের নেতাদের প্রতি কতটা অনুরাগ, কতটা মমতা ধারণ করতে পারে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যু পরবর্তী দৃশ্য। তাকে হারিয়ে জাতি যে শোকে নিমজ্জিত হয়েছিল, রাস্তাঘাট, জনসমুদ্রে যে হাহাকার বইয়ে গিয়েছিল, তা ছিল রাষ্ট্রীয় নয়, ছিল ব্যক্তিগত শোকের এক প্রবল বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাস বলছে, ক্ষমতা চলে যায়, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস চলে যায় না; রাজনীতি বদলায়, কিন্তু ভালোবাসা বদলায় না।
আজ সেই ইতিহাস আবার ফিরে এসেছে, আরও মহিমান্বিত রূপে, আরও গভীর আবেগে, আরও বেদনার্ত মমতায় বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসার মাধ্যমে।
এক নেত্রীর প্রতি জাতির অভাবনীয় আবেগ
রাজনীতিতে বিরোধ থাকে, আলোচনা থাকে, মতভেদ থাকে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে যে সম্মিলিত আবেগ দেখা যাচ্ছে, তা রাজনীতির প্রথাগত পরিসরকে ছাপিয়ে গেছে অনেক দূর। হাসপাতালের সামনে মানুষের নীরব ভিড়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি মানুষের প্রার্থনা, গ্রামগঞ্জে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, সবকিছু যেন একটাই কথা বলছে- তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি আমাদের জীবনের অংশ, আমাদের ইতিহাসের এক আলোকবর্তিকা।
তার প্রতি মানুষের এই ভালোবাসার মূলে আছে তার দেশপ্রেম, বিনয়, সততা ও মাতৃসুলভ নিবেদন। তিনি কখনও রাজনীতিকে ব্যক্তির ক্ষমতা অর্জনের সিঁড়ি হিসেবে দেখেননি; বরং দেখেছেন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মানুষের মর্যাদা রক্ষার এক পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে।
বিনয়ের শক্তি- যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে
যে মানুষ ক্ষমতায় থেকেও অহংকারে ভাসেন না, যে নেতা ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও বিনয়ের মাটিতে পা রাখেন, জনগণ সেই নেতাকে কখনও ভুলে যায় না। বেগম খালেদা জিয়া তেমনি একজন নেতা। দুইবার তীব্র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, একাধারে কারাবরণ, একটি সময় গৃহবন্দিত্ব সবকিছু সয়েছেন অসাধারণ ধৈর্য ও মর্যাদায়। তার কথা, তার ভঙ্গিমা, তার সিদ্ধান্ত, সবকিছুতে ছিল দেশের প্রতি তার নিখাদ দায়িত্ববোধ। তিনি কখনও দেশের ক্ষতি করে ব্যক্তিগত লাভ নেননি; কখনও ক্ষমতার মরীচিকায় মোহাচ্ছন্ন হননি। এই বিনয়, এই সততা মানুষকেই আবার তার দিকে ফিরিয়ে এনেছে। দেশপ্রেম ছিল তার শক্তির কেন্দ্র। সময়ের অনেক বিশ্লেষক বলেন, যে দেশে রাজনীতি অনেক সময় পারিবারিক, স্বার্থভিত্তিক অথবা ক্ল্যান-নির্ভর হয়ে পড়ে, সেখানে খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ছিল এক দুর্লভ উদাহরণ। তিনি যে বাংলাদেশকে ভালোবেসেছিলেন, তা ক্ষমতার চেয়ারে নয়, তার পরিমাপ ছিল তার সিদ্ধান্তে, তার আপসহীন অবস্থানে, তার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ়তায়। তিনি কখনও বিদেশি চাপ, চাপাচাপি বা তোষামোদের রাজনীতি করেননি। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ছিলেন অটল, নরমের ভেতর কঠোর, বিনয়ের ভেতর দৃঢ়।
জনগণের ভালোবাসা- যা প্রতিপক্ষও অস্বীকার করতে পারে না
আজ মানুষ তার প্রতি যেভাবে ভালোবাসা দেখাচ্ছে, তা অনেকের মনে অস্বস্তি তৈরি করা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, ক্ষমতার আসনে বসা যায়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে বসা যায় না। রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু মানুষের শ্রদ্ধা জোর করে আদায় করা যায় না। ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যায়, কিন্তু মানুষের প্রার্থনা থামানো যায় না। আজ লক্ষ মানুষের চোখে যে অশ্রু, মুখে যে দোয়া, হৃদয়ে যে উদ্বেগ, তা প্রমাণ করে বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত শক্তি তার পদ নয়, তার জনপ্রিয়তা নয়, বরং মানুষের অটুট বিশ্বাস। এটাই তার সবচেয়ে বড় বিজয়। এই ভালোবাসা কোনও প্রচারণা নয়, কোনও দলের আয়োজন নয়, কোনও হিসাবি সমাবেশ নয়, এটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা। এটাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন, এটাই তার জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্মানচিহ্ন। আর এটাই প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় ব্যথা। কারণ তারা জানে, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা অনন্ত।
ইতিহাসের শিক্ষা
ইতিহাস আমাদের বারবার বলে, ক্ষমতা টেকে না, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা টেকে না, দমন-নিপীড়ন টেকে না। কিন্তু ভালোবাসা টিকে থাকে। বিশ্বাস টিকে থাকে। জনগণের শ্রদ্ধা টিকে থাকে। আজ বেগম খালেদা জিয়া সেই স্থায়ী শ্রদ্ধার অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
প্রার্থনা-এক জাতির সম্মিলিত উচ্চারণ
বাংলাদেশের মানুষ আজ দল ভুলে গেছে, মত ভুলে গেছে, বিরোধ ভুলে গেছে। শুধু একটি প্রার্থনা উচ্চারিত হচ্ছে, সকাল-বিকাল-রাত- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হোন। তিনি ফিরে আসুন আমাদের মাঝে। তিনি বেঁচে থাকুন বাংলাদেশের ইতিহাসের অমর অধ্যায় হিসেবে। এই প্রার্থনা রাজনীতি নয়, এটি একটি জাতির হৃদয় থেকে জন্ম নেয়া সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার নির্মল আকুতি।
##





