তালায় ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানীর চেষ্টা \ অভিযুক্তকে ধরেও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
সাতক্ষীরা তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী গ্রামের ৫ম শ্রেনী পড়ুয়া (১০) এক শিশুকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদ করায় ঐ শিশুটির মাকেও এলোপাতাড়ী পিটিয়েছে অভিযুক্তের স্ত্রী। এঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে আটক করেও থানায় নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ভুক্তভোগী শিশুটির মা জানান, আজ বিকালে মহান্দী বাজারের চা বিক্রেতা শাহিনুর মোড়ল টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে যৌন হয়রানীর চেষ্টা করে । বিষয়টি আমার মেয়ে আমাকে জানালে আমি প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত শাহিনুর মোড়লের স্ত্রী আমার মাথায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারতœক জখম করে। পরে পরিবারের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা হাসপাতালে পাঠায়। কুড়ালের জোরালো কোপের আঘাতে আমার মাথা ফেটে গিয়েছে যেখানে ৮টি সেলাইয়ে প্রয়োজন হয়েছে। অভিযুক্ত শাহিনুর মোড়ল পলাতক আওয়ামীলীগ নেতা মোড়ল সিরাজুল ইসলামের ভাই।
এদিকে ঘটনার খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তালা থানা পুলিশের এস আই জিহাদ ও শাহিনের বিরুদ্ধে। এঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আমির মোড়ল জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশকে শাহিনুর মোড়লকে ধরে নিয়ে যেতে দেখেছি । তবে থানায় কেন নিয়ে যাওয়া হয়নি তা জানিনা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিনুরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তালা থানার এসআই শাহিনের কাছে ঘটনার বিবরণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি সেখানে যাইনি । এসআই জিহাদ গিয়েছিল। তবে এস আই জিহাদের বক্তব্য নিতে থানায় যাওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে অপেক্ষা করতে বলে সাড়ে ৭টা নাগাদ থানা এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে খবর নিয়ে জানাযায়, অভিযুক্ত শাহিনুর মোড়লকে ধরতে ২য় দফায় খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী এলাকায় অবস্থান করছেন এসআই জিহাদ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শাহিনুর মোড়লকে আটক করে । পরে থানায় নেওয়ার পথিমধ্যে জনৈক মিন্টুর মধ্যস্থায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে ঘটনা জানাজানি না করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তখন উভয় পক্ষ একে অপরের আতœীয় বলে পরিচয় দিয়ে এবং বিষয়টি মীমাংশা করে নিয়েছে মর্মে পুলিশকে জানায় । এঘটনায় কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
##