বিএনপি খারাপ হলে ৫ বছর সঙ্গে ছিল কেন: জামায়াত নিয়ে তারেক
বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘খারাপ হলে’ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন পাঁচ বছর জোটসঙ্গী হিসেবে ছিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারেক রহমান।
শুক্রবার রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান এমন প্রশ্ন তোলেন।
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “একটি দল আছে, যার বিএনপির বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরে মিথ্যা বলে যাচ্ছে; আজও বলেছে।”
অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ওই জোট সরকারে বিএনপির প্রধান শরিক দল ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
ওই সরকারের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “তাদের দুজন আমাদের সঙ্গে ছিল; ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত।
“আমার প্রশ্ন হলো, ভালো মানুষের সঙ্গেই তো ভালো মানুষ থাকে, নাকি? বিএনপি যদি খারাপ দলই হয়, তাহলে তারা পাঁচ বছর কেন সঙ্গে ছিল?”
তারেক রহমান বলেন, “হয় দলটির মাথা খারাপ হয়ে গেছে, নয়ত নিজেদের নেতৃত্ব সম্পর্কে তারা ভুল কথা বলছে।”
সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে এদিন সন্ধ্যায় পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
পথে পথে নেতাকর্মীদের ভিড় ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে তার প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা লেগে যায়।
তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন রাত সাড়ে ৮টায়; বক্তব্য শুরু করেন পৌনে ৯টার দিকে।
প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, সেগুলো সুদসহ সরকার পরিশোধ করে দেবে। কৃষকদের এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “অনেক মানুষ বলেন, রংপুর গরিব অঞ্চল। কিন্তু আমি মনে করি, এই অঞ্চল সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার সঠিক নেতৃত্ব।”
কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন ধানের শীষের পাশাপাশি দয়া করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন।”
উত্তরাঞ্চলের সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার দুপুরে বগুড়া থেকে সড়কপথে রংপুর আসেন তারেক রহমান।
তার আগমন উপলক্ষে দুপুর থেকে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নেতাকর্মীর আসতে শুরু করেন। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আসা নেতাকর্মীদের হাতে দেখা যায় ধানের ছড়া ও প্রার্থীদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।
বিকাল সাড়ে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।
রংপুর জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘গোটা রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৩৩ জন প্রার্থী তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সমাবেশে এসেছেন।
‘‘আপনার দেখছেন, পুরো ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে।”
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে ধানের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।
এদের মধ্যে রয়েছেন— দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য দিনাজপুর-৬ আসনের প্রার্থী এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু। রংপুর-১ আসনে মোকাররম হোসেন, রংপুর-২ আসনে মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ আসনে সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ আসনে মোহাম্মদ এমদাদুল হক, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রাব্বানী ও রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলামও সমাবেশে ছিলেন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনের ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের আব্দুস ছালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের মো. জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-১ আসনের মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনের একেএম কামরুজ্জামান, নীলফামারী-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম আফ্রিদি (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম), নীলফামারী-২ আসনের মো. সৈয়দ আলী, নীলফামারী-৩ আসনের শাহরিন, নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল গফুর সরকার, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের রোকন উদ্দিন বাবুল, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাইফুল রহমান রানা, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের তাজভীর উল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনের খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, গাইবান্ধা-২ আসনের আনিসুজ্জামান খান বাবু, গাইবান্ধা-৩ আসনের সৈয়দ মঈনুল হাসান সাদিক, গাইবান্ধা-৪ আসনের মো. শামিম কায়সার লিঙ্কন ও গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফারুক আলম সরকারও কর্মী-সমর্থক নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু। সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন।