ঝুলে গেলো অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত করা ১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি
অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত করা ১ হাজার ৭১৯টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা স্তর চলতি অর্থবছরে এমপিওভুক্ত হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, নতুন করে আবেদন নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতায় টিকলে আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২০২৭) এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবে।
রবিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক এক প্রশ্নের জবাবে জানান, পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠানের আবেদন গ্রহণ করা হবে। আগামী অর্থ বছরে (২০২৬-২০২৭) প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে নতুন পুরাতন সব আবেদন পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান বা স্তর প্রথম দফায় এমপিওভুক্তির তালিকা চূড়ান্ত করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অর্থাৎ আগামী জুন মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বা স্তরের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছিল।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ এর আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। নির্ধারিত সময়ে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন পাওয়া গেছে, এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি, স্নাতক (পাস) পর্যায়ের ৪৪০টি, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ৪১৪টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৫টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত আছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই সময় জানায়, নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে পাওয়া আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির যোগ্যতা, আঞ্চলিক সমস্যাসহ আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়ায় প্রাপ্ত গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনাযোগ্য মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় সম্ভাব্য আর্থিক সংশ্লেষ নিরূপণ করা হয়েছে। তৎপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির বিষয়ে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংখ্যা নিরূপণ করা হলেও সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম বর্তমানে চলমান ছিল। এক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা প্রমাণগুলো ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্যাদি ও অনলাইন ডাটাবেজের ভিত্তিতে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তথ্যাদি সরজমিনে যাচাই করার কথাও জানিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয় ‘নীতিমালায় নির্ধারিত মূ্ল্যায়ন মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রস্তুত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির আবেদনগুলো মূল্যায়ন এবং অনলাইনে ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তথ্যাদি সরজমিনে তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম দিদ্দিকীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ এর আলোকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এমপিওভুক্তকরণের লক্ষ্যে এমপিওপ্রত্যাশী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো— এসব আবেদের পাশাপাশি নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়টি একটি চলমান ও পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া। নীতিমালার আলোকে প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা থাকা, অঞ্চলভিত্তিক জনসংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব বিষয়ক সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা এবং সরকারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সাপেক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে এবং ভবিষ্যতে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির কাজ চলমান রাখবে।