সোশ্যাল মিডিয়ায় জনগণের ভোগান্তির খবর দেখে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারই নির্দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ১৫ কোটি টাকার ব্রিজের ভাগ্য বদলাতে যাচ্ছে মাত্র ১৫ দিনে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নির্মাণাধীন ব্রিজের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তদারকি শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্রিজটি পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী জানান, আট কোটি টাকার রাস্তা ও সাত কোটি টাকার ব্রিজের মূল কাঠামো অনেক আগেই নির্মিত হয়েছিলো। কিন্তু সামান্য সংযোগ সড়কের অভাবে জনগণের কোনো কাজে আসছিলো না এই বিপুল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় সম্পদ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যৌথভাবে আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণের টাকায় নির্মিত এই সম্পদ যেন অবহেলায় পড়ে না থাকে, সেজন্যই আজ এই সফর। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
কাজটি দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহবায়ক করে একটি সাত সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সরাসরি তদারকি করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ব্রিজের এ্যাপ্রোচ রোড সম্পন্ন করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেবে।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসক রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে এডিসি বা ইউএনওরা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে আমরা খুব দ্রুত নির্বাচন দিয়ে দেবো। জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবে তারাই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাল ধরবেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) মো. ওয়াহিদুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মুসা। এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।






