মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম আল্টিমেটামের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। তবে আজ রাতের মধ্যেই কোনও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আগে প্রশ্ন ছিল ‘আমরা কি কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব?’ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এখন সেই প্রশ্ন বদলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আমরা কি আজ রাত ৮টার (ওয়াশিংটন সময়) মধ্যে সেখানে পৌঁছাতে পারব?’ এই সময়সীমাটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সেই ডেডলাইন, যা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সর্বশেষ যে প্রস্তাবটি আমরা পেয়েছি, তা ঠিক আমাদের কাঙ্ক্ষিত না হলেও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভালো ছিল।’
সূত্রমতে, মধ্যস্থতাকারীরা সেই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে সংশোধনী আনার জন্য তেহরানের সঙ্গে কাজ করছেন।
আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই এক ধরনের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ‘আরও আলোচনার আগ্রহ রয়েছে। গত সপ্তাহে এটি জেনেভায় হয়েছিল, এই সপ্তাহে হয়তো ইসলামাবাদে হতে পারে।’
আলোচনার এই ক্ষীণ আশার সমান্তরালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভয়াবহ হুমকি অব্যাহত রয়েছে। তিনি এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি মেনে না নেয়, তবে ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা হারিয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর আগে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। তবে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরান আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে কি না, সে বিষয়টি তারা নিশ্চিত হতে পারেনি।





