ফাতেমা এখন আমাদের পরিবারের সদস্য : প্রধানমন্ত্রী

কটি নামের সাথে মনে হয় আপনারা সবাই না হলেও বেশ কিছু মানুষ পরিচিত আছেন, ফাতেমা। এই মেয়েটি আমার আম্মার (খালেদা জিয়া) সাথে জেলেও ছিলেন। যেহেতু আম্মা অসুস্থ ছিলেন। সে অনেকদিন অনেক বছর ধরে আছে, আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের পরিচারিকা ফাতেমা বেগমকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফাতেমা এখন আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য হয়ে উঠেছেন।

তিনি বলেন, ‘একটি নামের সাথে মনে হয় আপনারা সবাই না হলেও বেশ কিছু মানুষ পরিচিত আছেন, ফাতেমা। এই মেয়েটি আমার আম্মার (খালেদা জিয়া) সাথে জেলেও ছিলেন। যেহেতু আম্মা অসুস্থ ছিলেন। সে অনেকদিন অনেক বছর ধরে আছে, আমাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গিয়েছে।’

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন-২০২৬’-এ ভাষণ দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এ সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে সারাদেশ থেকে ৫০০-এর বেশি ইউএইচএফপিও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছয়টি ক্যাটাগরিতে সেরা পারফরম্যান্সকারী কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ফাতেমার এক আত্মীয় দুই দিন আগে বরিশালে তার বাড়িতে প্রসবকালীন জটিলতার সম্মুখীন হন। তখন তাকে বরিশাল হাসপাতালে নেয়া হলো। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, তিনি পরে তার স্ত্রীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে স্থানীয় পর্যায়ে, এমনকি কিছু মৌলিক চিকিৎসাও প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, তারা তাকে সাথে সাথেই ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ফাতেমা বিষয়টি আমার স্ত্রীকে জানান এবং আমার স্ত্রী কয়েকজন মানুষের সাথে কথা বলেন, যার ফলে তার সেই আত্মীয় উন্নত চিকিৎসা পেতে সক্ষম হন।

তবে এমন সুযোগ সবার জন্য নেই উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ তারেক রহমান বলেন, সবাই তো আর ফাতেমা নন, আর সবাই তার আত্মীয়ও নন। সেই পরিচয়ের কারণে আমার স্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং তদারকি করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি আরো একটু মনোযোগী হতেন, তবে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতো। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যদি একটু বেশি সতর্ক এবং যত্নশীল হতেন, তবে সব না হলেও অন্তত বড় ধরনের অনেক সমস্যাই এড়ানো যেত।

তিনি স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো দায়িত্বশীল এবং সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, আমাদের এবং সরকারকে সহায়তা করুন যাতে ফাতেমার ঘটনার মতো কাউকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে না হয়। প্রত্যেকটি মানুষ যেন অন্তত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাটুকু পায়।

আরো মানবিক এবং জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে দেশের সর্বত্র ন্যায্য ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।