নিজ বাড়ি থেকে ৩ নারীসহ ‘আটক’ ইউপি চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

গাইবান্ধার সাঘাটায় নিজ বাড়ি থেকে তিন নারীসহ আটক হওয়া মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লায়নকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। চেয়ারম্যানের বাড়িতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে স্থানীয়রা তাদের আটকের পর পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের কচুয়াহাট এলাকায় চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি থেকে তিন নারী, এক ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যানসহ মোট ছয়জনকে উদ্ধার করে সাঘাটা থানা পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে বাইরে থেকে নারী এনে ‘ফুর্তি’ করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘিরে তিন নারী, চেয়ারম্যান ও অন্যদের আটকে রাখেন।

পরে জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জনরোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর গভীর রাতে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের ওই নারীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায়। এ সময় নারীরা কাপড়ে মুখ ঢেকে দ্রুত পুলিশের গাড়িতে ওঠেন। 

অন্যদিকে শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যানের মুক্তির দাবিতে স্থানীয়দের একটি অংশ সাঘাটা থানা চত্বরে জড়ো হন। তারা দাবি করেন, চেয়ারম্যান নির্দোষ এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ৯৯৯-এ কল পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তিন নারী, এক ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানসহ ছয়জনকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, ওই তিন নারী বাউলশিল্পী। তারা বাউল গান পরিবেশন করেন। চেয়ারম্যান তাদের নিজের বাড়িতে বাউল গান শোনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তার বাড়িতে মাঝেমধ্যেই বাউল গানের আসর বসে। তদন্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মুক্তিনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লায়ন দাবি করেন, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

@@@