ভেনিসে হামলা, দেশে ফিরে যা বললেন বাঁধন
ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
সোমবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এসময় তিনি বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
হামলাকারীদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, ‘আজকে তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন নয় যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, পানি মেরেছে। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, তারা তাদের স্থানটাকে আসলে অনিরাপদ করছে।’
ভেনিসের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।
বাঁধন বলেন, ‘প্রবাসী ভাইয়েরা আমার সঙ্গে বর্বরতা করেছে এবং আমাকে খুবই জঘন্যভাবে আক্রমণ করেছে। এটার কারণে আমাদের দেশের নাম আসলে বিদেশের মাটিতে কিন্তু ক্ষুণ্নই হলো। বিদেশিরা ভাববে, আমরা হয়তো জাতিগতভাবে সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানেই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সেটা তো আসলে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বাঁধনের সক্রিয় ভূমিকার কারণেই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাঁধন। তার দাবি, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, ‘আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, সাপোর্ট করতে পারেন, কিন্তু আপনারা দলকানা হইয়েন না। আজকে আপনার বিচার হলে আপনার পরিবার সাফার করবে। বড় বড় নেতা যারা আছেন, আরামে দেশে–বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যারা বিদেশের মাটিতে বসে অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে আপনাদের উসকে দিচ্ছেন, তাদের জীবনটা কিন্তু আপনাদের মতো নয়।’
দলটির নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা তো ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন। আপনারা কী ধরনের রাজনীতি করবেন, সেটার কিন্তু একটা রূপরেখা আপনারা তৈরি করছেন। আপনারা এমন রূপরেখা তৈরি কইরেন না, যেটার জন্য ভবিষ্যতে আপনাদের লজ্জিত হতে হবে।’
এ সময় নিজের অভিনীত সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ টিম নিয়েও অভিযোগ করেন বাঁধন। তার দাবি, সবাই সহযোগিতা করলেও তার টিম তাকে ‘ডিজওন’ করেছে। টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ত সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। পরে সেখানে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন তিনি।