কিশোর গ্যাং দমনে মোহাম্মদপুরে হচ্ছে ৩ থানা: ববি হাজ্জাজ

বৃহত্তর মোহাম্মদপুরকে তিনটি থানায় ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, রায়েরবাজার থানা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়ে একনেকে রয়েছে। আর বসিলা থানা আগামী অক্টোবরের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়ে একনেকে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোহাম্মদপুরের বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বৃহত্তর মোহাম্মদপুরকে তিনটা থানায় বিভক্ত করা। রায়েরবাজার থানা ইতিমধ্যে হোম মিনিস্ট্রি থেকে পাস হয়ে গেছে, এটা একনেকে আছে। আমরা আশাবাদী আগামী বছরের ভেতরে রায়েরবাজার থানা হয়ে যাচ্ছে।’

বসিলা থানা স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশব্যাপী নতুন ১২৫টি থানা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বসিলা থানা রয়েছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে বসিলা থানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়ে একনেকে যাবে বলে আশাবাদী তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হোম মিনিস্টার থেকে শুরু করে আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার সকলের সঙ্গে আমার আলাদাভাবে এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে কথা হয়েছে। একদম প্রথম তালিকায় যে ৫-১০টা হবে, তার ভেতরে বসিলা থানা থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, আগামী বছরের মধ্যে মোহাম্মদপুরবাসী তিনটি থানা পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী। নতুন থানাগুলো হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ববি হাজ্জাজ বলেন, রায়েরবাজার থানা হলে ক্যান্সার গলি, পাবনা গলিসহ যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বেশি, সেসব এলাকায় নতুন থানার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার হবে।

অন্যদিকে বসিলা, নবীনগরসহ আশপাশের এলাকাগুলোও নতুন বসিলা থানার আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে থানার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়েও কাজ চলছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত সাড়ে ছয় থেকে সাত মাস ধরে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে প্রায় ১১২ থেকে ১১৫টি মহল্লায় ভাগ করে মসজিদ কমিটি, বাজার কমিটি ও স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে অনানুষ্ঠানিক দায়িত্বশীল গ্রুপ তৈরির কাজ চলছে।

এসব স্থানীয় কমিটির সঙ্গে পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সংযোগ তৈরির কাজ আগামী দুই থেকে চার মাসের মধ্যে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

ববি হাজ্জাজ দাবি করেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধের সংখ্যা কমেছে। তবে অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অপরাধের সংখ্যা যতটা সম্ভব শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু চলমান, একসঙ্গে হয়ে যাবে না। তবে করার জন্য আমরা কাজ করছি।’