এত স্কুল, এত পরীক্ষা, এত সার্টিফিকেট। কিন্তু এত কিছুর ভিড়ে সত্যিকারের শিক্ষাটা আসলে কোথায়? অথচ উচিত ছিল পরীক্ষার জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মকে পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করা।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, #মহান_শিক্ষা_দিবস।

১৯৬২ সালের এই দিনে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রাজপথে রক্ত দিয়েছিলেন মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ অনেকে। সেই ঘটনার ৬৪ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমি Faatiha Aayat, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতে চাই – তাঁদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া শিক্ষার অধিকারকে আমরা কি শুধু ভর্তি, পরীক্ষা, জিপিএ আর সার্টিফিকেটের অধিকারে নামিয়ে এনেছি?

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের Multiple Indicator Cluster Survey #MICS বলছে, ৭–১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০.২% মৌলিক পড়ার দক্ষতা এবং মাত্র ৩৯.২% মৌলিক গণিতের দক্ষতা অর্জন করেছে। Upper Secondary সম্পন্ন করতে পারছে মাত্র ৪৩.৯%। অর্থাৎ সমস্যা শুধু শিশুকে বিদ্যালয়ে আনা নয়। বিদ্যালয়ে এসে সে কী শিখছে, আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সেটিই।

আমার চোখে, #প্রাথমিক শিক্ষায় প্রথম বিপ্লবটি হওয়া উচিত literacy, numeracy, curiosity আর quality তে। ওভার ক্রাউডেড ক্লাশরুমে শিশুকে মুখস্থ করিয়ে নম্বর প্রাপ্তির প্রতিযোগিতা থেকে বের করে এনে প্রশ্ন করতে, বুঝতে ও আবিষ্কার করতে শেখাতে হবে।

#মাধ্যমিক শিক্ষায় পরীক্ষাকেন্দ্রিক দৌড় কমিয়ে critical thinking, communication, technology, financial literacy, creativity ও real-life problem solving কে পাঠশালার কেন্দ্রে আনতে হবে। শিক্ষা যেন কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট টিউটরের কাছে আত্মসমর্পণ না করে।

আর #উচ্চ শিক্ষায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখনকার মত শুধুমাত্র ডিগ্রি বিতরণের কারখানা বানিয়ে রাখলে চলবে না। internship, entrepreneurship ও Leadership কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, দক্ষতা ও সমাধান তৈরির প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা দরকার। কতজন গ্র্যাজুয়েট বের হলো তা দিয়ে নয়, বরং কত নতুন জ্ঞান তৈরি হল, কত সমস্যার সমাধান হল এবং দেশের অর্থনীতি ও সমাজে কতটা পরিবর্তন এল, তা দিয়ে মাপতে হবে উচ্চশিক্ষার সফলতা।

শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ বাড়ছে। এটা ভালো। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তা প্রায় #GDP এর ২% পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য শুধু ভবন বানালে শিক্ষা তৈরি হয় না। ভালো শিক্ষক, ভালো পাঠদান, গবেষণা, জবাবদিহি এবং চিন্তার স্বাধীনতায় বিনিয়োগ করতে হয়।

আল্লাহ বলেন—
يُؤْتِى ٱلْحِكْمَةَ مَن يَشَآءُ ۚ وَمَن يُؤْتَ ٱلْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِىَ خَيْرًۭا كَثِيرًۭا ۗ
তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন এবং যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয় সে নিশ্চয়ই প্রচুর কল্যাণ লাভ করে। Baqarah : 269

তাই শিক্ষা দিবসে আমার আহ্বান খুব পরিষ্কার—
আসুন, শিক্ষাকে আমরা জাস্ট আরেকটা #প্রকল্প হিসেবে না দেখে, জাতি নির্মাণের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি।

কারণ বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ একটি অশিক্ষিত #প্রজন্ম নয়। বরং সার্টিফিকেটধারী, অথচ চিন্তা করতে অক্ষম একটি প্রজন্ম। আর যে শিক্ষাব্যবস্থা ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে, কৌতূহলকে হত্যা করে, মেধাকে নম্বরে বন্দী করে, সেই ব্যবস্থার সংস্কার কোনো অনুগ্রহ নয়। এটি জরুরি জাতীয় প্রয়োজন।

মনে রাখতে হবে,
ইট-বালু-সিমেন্টে প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়, শিক্ষা নয়।
সিলেবাসে অধ্যায় যোগ হয়, চিন্তা নয়।
সার্টিফিকেটে ডিগ্রি লেখা হয়, মেধা নয়।

তাই, শিক্ষায় আর cosmetic change নয়, দরকার structural shift।