ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন রাজমিস্ত্রির যোগানদাতা মেহেদী। হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে একটি গাড়ি এসে তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীকে বের করার পর তার দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির চালকের আসন থেকে একজনকে বের হয়ে আসতে দেখা যাওয়ার দাবি উঠলেও মামলায় প্রকৃত চালকের নাম রয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে প্রথমে জনরোষ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশ জানিয়েছে, প্রকৃত চালককে আটক করা হলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে আসলে কে ছিলেন?
মেহেদীর বড় ভাইয়ের করা মামলায় কথিত পলাতক চালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সিসিটিভি ফুটেজে যদি প্রকৃত চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে মামলায় তার নাম কেন নেই?
ঘটনাটি নিয়ে অনেকে বাংলা চলচ্চিত্র ‘মনপুরা’র একটি দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করছেন। যেখানে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানের অপরাধের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বলছেন, বাস্তব জীবনের এই ঘটনাতেও একই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে নিহত মেহেদীর পরিবার নিয়েও তৈরি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। জানা গেছে, তাদের ঘর ভাঙা ছিল এবং সেই ঘর নতুন করে নির্মাণের জন্যই মেহেদী কাজ করছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল নতুন একটি ঘর হবে। কিন্তু সেই ঘর তৈরির আগেই মেহেদী চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরকে হেফাজতে রেখেছে বলে জানা গেছে। তবে তাকে শেষ পর্যন্ত আইনের আওতায় রেখে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে কি না—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, গাড়ির মালিকানা, চালকের পরিচয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ যেন কাজ না করে, সে দাবিও উঠেছে।
একজন মানুষের জীবন চলে গেছে। মেহেদী আর কোনোদিন তার পরিবারের নতুন ঘরে ফিরবেন না। তাই এই ঘটনায় প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি যেই হোক, তার পরিচয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন নিহতের পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা।
মেহেদীর পরিবারের প্রশ্ন একটাই—একজন মানুষের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই? আর যদি দুর্ঘটনার জন্য কেউ দায়ী হয়ে থাকে, তাহলে তার পরিচয় গোপন রেখে অন্য কারও ওপর দায় চাপানো হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।






