- সরকারি কাজে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় কমাতে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা সংশোধন করেছে সরকার। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, নতুন করে আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা নেওয়া যাবে না।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-০৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে নীতিমালার কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি ব্যক্তির সেবা ক্রয় করতে পারবে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও সেবা নেওয়া যাবে। তবে নতুন সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। অবশ্য ইতোমধ্যে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় ক্রয় করা সেবার মেয়াদ চুক্তির নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সংশোধনীতে ‘সেবা সরবরাহকারী’র সংজ্ঞাও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ের জন্য নির্ধারিত সেবা সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সেবা ক্রয়কারীর সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সেবা সরবরাহকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া ‘আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটি’ বলতে আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটিকে বোঝানো হয়েছে।
এছাড়া সেবা ক্রয়কারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর যে নির্দিষ্ট সেবার জন্য চুক্তি করবে, সেবাকর্মীকে সেই সেবা ছাড়া অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত করতে পারবে না।
আউটসোর্সিং সেবার পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, চুক্তিভুক্ত সেবার বিপরীতে সেবাকর্মীর নিজ নামীয় ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ব্যক্তিগত চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
চুক্তির শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮-এর আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সরকারি কাজে গতিশীলতা আনয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নীতিমালায় এসব সংশোধন আনা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশোধিত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
- এমএম/এসজাবা






