রাকসুর অনুদানের অ্যাম্বুলেন্সকে শিবিরের নামে চালানোর অভিযোগ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) অনুদানে পাওয়া অ্যাম্বুলেন্সকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রচার করার অভিযোগ তুলেছেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, অ্যাম্বুলেন্সটি সংগ্রহের উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে তার যোগাযোগের প্রমাণ রয়েছে।
সালাউদ্দিন আম্মার এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, গত ৬ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (জকসু) একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার সময় তিনি চিকিৎসক এসএম খালিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সসহ কিছু মেডিকেল সরঞ্জাম দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তার দাবি, ১৭ আগস্ট এসএম খালিদুজ্জামান তাকে জানান, তার স্ত্রী লতিফা রশিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের অনুমোদনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এরপর নির্ধারিত তারিখে রাকসুর জিএস হিসেবে তিনি আবেদনপত্রও দেন।
পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ২১ আগস্ট ঢাকায় এসএম খালিদুজ্জামানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেখান থেকেই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি অ্যাম্বুলেন্স পেতে যাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, একই দিন রাকসুর গ্রুপে বিষয়টি জানালেও রাকসুর ভিপি ছাড়া অন্য কোনো সদস্যের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের উৎস বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি। বিষয়টি আপাতত কাউকে না জানানোর জন্য ভিপিকেও অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
তবে ৭ সেপ্টেম্বর ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সংগঠনটির সভাপতি অ্যাম্বুলেন্সটি ‘ম্যানেজ’ করেছেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান সালাউদ্দিন আম্মার।
তার ভাষ্য, “আপত্তি করতাম না বা চুপচাপ থাকতাম যদি এটা বলা হতো রাকসুর পক্ষ থেকে উপহার। কিন্তু এটাতে লিখেছে শিবিরের পক্ষ থেকে উপহার।”
অ্যাম্বুলেন্সটি সংগ্রহে আগে কে যোগাযোগ করেছিলেন এ বিষয়ে শিবির, জামায়াত ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার আগে কেউ এসএম খালিদুজ্জামানের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করেছে এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে দেবেন।
সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “এই অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত একটা ফোনকল, একটা কনভার্সেশন দেখাক। ব্যাকডেটে একটা অ্যাপ্লিকেশনে সিগনেচার করে নিতে পারে সর্বোচ্চ। তবে আমার কাছে রিয়েল টাইম কনভার্সেশন আছে।”
তবে বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্কে যেতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পেয়েছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সালাউদ্দিন আম্মার আরও জানান, পরবর্তীতে তিনি আবারও একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ায় ওই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তার দাবি, প্রায় ৩০ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করে শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
- জাগরণবার্তা -জী.এম.আর-০১১