বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান কেন ভোটার হননি? উনি কবে ভোটার হবেন? আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উনি কি প্রার্থী হতে পারবেন-এমন প্রশ্ন এখন সবার মাঝে উঁকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক রহমান এখনো ভোটার হয়নি। তবে কমিশন চাইলে উনি যেকোন সময়ে ভোটার হতে পারবেন।
প্রথমত তারেক রহমান কেন ভোটার হননি? কারণ উনাকে আসলে ভোটার হতে দেয়া হয়নি। ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তথাকথিত মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন মামলায় তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর অমানসিক শারীরিক নির্যাতন এবং নিপীড়ন চালানো হয়। ৮৪টি মামলা দেয়া হয়, যা পরবর্তী আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বপরিবারে লন্ডনে চলে যান। ২০০৭ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ যখন শুরু হয় তখন তিনি ছিলেন কারাবন্দি।
বিগত তথাকথিত এক এগারোর সরকার একবারের জন্যেও উনাকে ভোটার করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়নি। ২০০৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এই ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ শেষে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর “মেটিকুলাস ডিজাইনের” ভোট হয়। এরপর থেকে টানা ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের ভোটার করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়। কিন্তু উনি প্রবাসী কোটায় ভোটার হতে অনাগ্রহী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার লক্ষ্যে গত ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার
তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। সাধারণত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর কেউ ভোটার হতে পারেন না। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে ভোটের আগের দিন ভোটারযোগ্য যে কাউউকে ভোটার করতে পারেন। নির্বাচনের তপশিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে। তপশিলের এতো আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের মূল কারণ সিডিসহ ভোটার প্রস্তুতকরণ। তপশিল ঘোষণা করলে সিডি রেডি রাখতে হয়। এই কারণে চূড়ান্ত ভোটারের পর কেউ ভোটার হতে পারেন না।
দ্বিতীয়ত তাহলে তারেক রহমান কিভাবে এবং কবে ভোটার হবেন? উনি দেশে এসে ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটি বিদ্যমান ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১৫ ধারায় স্পষ্ট করা আছে। ওই ধারায় বলা আছে, “ভোটারযোগ্য যে কাউকে নির্বাচন কমিশন চাইলে যে কোন সময়ে ভোটার করতে পারেন।” আবার আইনের ১৭ ধারায় বলা আছে, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত আবার কোন আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
তারেক রহমান চলতি মাসেই দেশে ফিরছেন। সেটি তপশিল ঘোষণার একদিন আগে অথবা পরে হতে পারে। দেশে এসে ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করবেন। এই আবেদন কমিশন সভায় উত্থাপিত হলে উনাকে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ১৫ ধারায় ভোটার করতে নির্বাচন কমিশনের কোন বাঁধা নেই। পরবর্তীতে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।
তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তবে উনাকে নির্বাচন করতে হলে মনোনয়ন দাখিলের আগেই ভোটার হতে হবে। যদি উনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটার হন তাহলে প্রার্থী হতে কোন সমস্যা নাই। যদি ১১ ডিসেম্বর অথবা ১৪ বা ১৫ ডিসেম্বর তপশিল ঘোষণা
করা হয় তাহলে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সম্ভবত ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেয়া হতে পারে। ফলে তারেক রহমানের হাতে ভোটার হতে সময় আছে মাত্র ২৩দিন।
তারেক রহমান অচিরেই দেশে আসবেন। এবারে বিজয় উৎসব উনি গণতন্ত্রকামী বাংলাদেশপন্থীদের সাথেই উদযাপন করবেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। তারেক রহমানের বাবা দেশের জন্য মারা গেছেন, দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছেন মৃত্যু অবধারিত ধরে নিয়েই। ছোট ভাইটাও ভুগতে ভুগতে অকালে চলে গেছেন। উনার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি দেশের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, ঐক্যে এবং গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পান্জা লড়ছেন। সারাদেশবাসী দু,হাত তুলে মোনাজাত করছেন। উনার সন্তান হিসেবে জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশের জন্য বিলিয়ে দেবেন-এটাই স্বাভাবিক।
তারেক রহমান ফিরবেন, বীরের বেশে। দেশে এসে ভোটার হবেন, ভোটদানে আমাদের উদ্বুদ্ধ করবেন। গণতন্ত্রের পতাকা তলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। প্রার্থী হবেন। নির্বাচিত হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়বেন। সেই বাংলাদেশ হবে হানাহানি, খুনোখুনী মুক্ত। সুশাসন, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। প্রত্যেক নাগরিক ফিরে পাবে তার প্রাপ্ত অধিকার। আর জনগণ পাবে, গণমানুষের নেতা। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে গর্জে উঠবে। সেই প্রত্যাশা আপামর জনগণের।
সাইদুর রহমান
সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
সিনিয়র ইডিটর, দৈনিক ইত্তেফাক, কলামিস্ট, নির্বাচন ও সংসদ বিষয়ক আলোচক!
##





