সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৪২)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় বিক্ষো’ভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মরদে’হ মর্গে পাঠাতে বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছে সেনা সদস্যরা। আর বিক্ষু’ব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আনুমানিক ৯ টা ১৫ মিনিটের দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত একটি ঔষধের ফার্মেসি থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্ট (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প)-এর সদস্যরা।
অভিযোগ উঠেছে, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের কথা বলে তাকে জীবননগর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে ডাবলু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১০ টার পর তাকে পুনরায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান সেনা সদস্যরা। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। ডাবলুর মৃ’ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহ’ত শামসুজ্জামান ডাবলু দুই সন্তানের বাবা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দুই শিশুপুত্রের সঙ্গে ডাবলুর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা। জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হ’ত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সেনাক্যাম্প বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃ’ত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।





