বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তার এ উদ্যোগ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ পেতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই তার রাজনৈতিক দলের পদ ছাড়তে হবে।
এ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর এই দুই উপজেলায় ৬টি বেসরকারি কলেজ, ৬টি কারিগরি কলেজ, ৫৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৫টি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোই বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অতীতে এসব কমিটির সভাপতির পদ পেতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দ্বারস্থ হওয়ার প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়।
সম্প্রতি শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে নতুন এ নীতির ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি চান, এসব প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ও সমাজের সম্মানিত নিরপেক্ষ নাগরিকরা। ফলে যারা সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তারা চাইলে সভাপতির দায়িত্ব নিতে পারবেন- তবে সেক্ষেত্রে আগে তাদের দলীয় পদ ত্যাগ করতে হবে।
ইতোমধ্যে এই নীতির বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাঙ্গনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে একটি আদর্শ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে একটি বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত আছি। আমাদের নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন- রাজনৈতিক পদে থেকে কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবে না। আমি রাজনীতি চালিয়ে যেতে চাই, তাই সভাপতি পদে না গেলেও এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ শামীম বলেন, এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। আমি মনে করি, এ উদ্যোগ সারা দেশে বাস্তবায়ন করা উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রভাবের জায়গা হতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার মান উন্নত হোক এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই যোগ্য, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তিনি রাজনীতি করবেন- কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নিতে হলে তাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।





