শিরোনাম

** সাবেক ওসি নারীসহ আরেক স্ত্রী’র কাছে ধরা; দাবী তালাকের, কাগজ পাননি স্ত্রী | ** মাদক ও জুয়ামুক্ত ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যে ধানদিয়ায় ফুটবল বিতরণ। | ** সরকারি কর্মচারী নিজের চাকরির বিষয়ে কাউকে দিয়ে তদবির করালে বিভাগীয় ব্যবস্থা | ** ৩০ বছরের ট্রেন ৮ বছরেই মর্গে! সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে নেই দায়িত্বশীলতা। | ** বিশ্বজয়ী কুরআন হাফেজদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ | ** অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প | ** নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে নুসরাত ফারিয়া | ** কিশোর গ্যাং দমনে মোহাম্মদপুরে হচ্ছে ৩ থানা: ববি হাজ্জাজ | ** নতুন নেতৃত্ব প্রায় চূড়ান্ত, কার ভাগ্যে কোন পদ? | ** গার্মেন্টস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় সাতজনের যাবজ্জীবন | ** দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান | ** আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প পুনরুদ্ধারে নতুন করে খুলনাকে গড়তে হবে: হুইপ বকুল |
  • Uncategorized
  • মাদকবিরোধী অভিযান, ডোপ টেস্টের খরচে নাভিশ্বাস পুলিশের

মাদকবিরোধী অভিযান, ডোপ টেস্টের খরচে নাভিশ্বাস পুলিশের

image_print
image_print

ঝিনাইদহে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। নিয়মিত অভিযান, সন্দেহভাজনদের আটক এবং ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকসেবন শনাক্ত করে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা। এতে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বাড়ছে মামলা ও আসামির সংখ্যাও।

তবে মাদকবিরোধী এই অভিযানের আড়ালে তৈরি হয়েছে নতুন এক চাপ। আটক ব্যক্তিদের ডোপ টেস্ট করাতে প্রতি পরীক্ষায় ব্যয় হচ্ছে ৯৫০ টাকা। আর সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কিংবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নিজের পকেট থেকে।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৪ জুলাই থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৪ দিনে জেলার বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখায় সামারী ট্রায়ালে মোট ১৭৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি হয়েছেন ২২২ জন।

রিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৪ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ১৭ দিনে মামলা হয়েছে ৩৩টি, আসামি হয়েছেন ৪৪ জন। আগস্ট মাসে অভিযানের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ মাসে মামলা হয়েছে ১২৭টি এবং আসামি হয়েছেন ১৫৮ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিনে আরও ১৫টি মামলা হয়েছে,যাতে আসামি হয়েছেন ২০ জন।

জুলাইয়ের ১৭ দিনে ঝিনাইদহ সদর থানায় ৫টি মামলায় পাঁচজন, কালীগঞ্জে ৬টি মামলায় আটজন, শৈলকুপায় ১৪টি মামলায় ১৯ জন, হরিণাকুন্ডুতে ১টি মামলায় একজন, কোটচাঁদপুরে ১টি মামলায় একজন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) ৬টি মামলায় ১০ জন আসামি হন।

আগস্টে ঝিনাইদহ সদর থানায় ২৭টি মামলায় ৪২ জন, কালীগঞ্জে ১৬টি মামলায় ১৮ জন, শৈলকুপায় ৫৫টি মামলায় ৫৭ জন, হরিণাকুন্ডুতে ৬টি মামলায় ১০ জন, কোটচাঁদপুরে ৭টি মামলায় ৯ জন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখায় ১৬টি মামলায় ২২ জন আসামি হয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিনে ঝিনাইদহ সদর থানায় ৩টি মামলায় তিনজন, কালীগঞ্জে ১টি মামলায় তিনজন, শৈলকুপায় ৯টি মামলায় ৯ জন, হরিণাকুন্ডুতে ১টি মামলায় একজন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখায় ১টি মামলায় তিনজন আসামি হয়েছেন।

এ সময়ে কোটচাঁদপুরে কোনো মামলা হয়নি।

৫৪দিনের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে শৈলকুপা থানায়। ১৪ জুলাই থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে মোট ৭৮টি মামলায় ৮৫ জন আসামি হয়েছেন। একই সময়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় ৩৫টি মামলায় ৫০ জন, কালীগঞ্জে ২৩টি মামলায় ২৯ জন, হরিণাকুন্ডুতে ৮টি মামলায় ১২ জন, কোটচাঁদপুরে ৮টি মামলায় ১০ জন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখায় ২৩টি মামলায় ৩৫ জন আসামি হয়েছেন। আসামিদেরকে ১৫ দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তির মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্ট এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে। কাউকে আটকের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার ফি পরিশোধসহ পুরো প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরই সামলাতে হচ্ছে। কিন্তু ডোপ টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষার ৯৫০ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা আটককারী পুলিশ সদস্যকে। প্রাথমিকভাবে এ খরচ থানার ওসির বহন করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় দায়িত্বটি এসে পড়ছে অভিযানে থাকা এসআইদের ওপর।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,পরবর্তীকালে বিভিন্ন ফান্ড থেকে এসব অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও নিয়মিত, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য বলেন, দমাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো আমাদের দায়িত্ব। কাউকে আটক করার পর ডোপ টেস্ট প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করাতেই হয়। কিন্তু সেই পরীক্ষার টাকা যদি নিজের পকেট থেকে দিতে হয়, তাহলে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আর্থিক চাপও তৈরি হয়।

আরেক পুলিশ সদস্য বলেন, দু-একজনের ক্ষেত্রে ৯৫০ টাকা হয়তো খুব বেশি মনে হবে না। কিন্তু নিয়মিত অভিযানে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করতে হয়। প্রত্যেকের ডোপ টেস্ট করাতে হলে মাস শেষে নিজের পকেট থেকে দেওয়া টাকার পরিমাণও কম নয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের এই আর্থিক সংকটের বিষয়টি সামনে আসায় শৈলকুপায় কিছুটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে ‘আগামীর শৈলকুপা’ নামে একটি সংগঠন। ডোপ টেস্টের খরচ বহনে তারা পুলিশকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান যত বাড়বে, ডোপ টেস্টের প্রয়োজনও তত বাড়বে। ফলে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ের পরিমাণও বাড়বে। সাময়িক সহযোগিতার পরিবর্তে ডোপ টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও নিয়মিত সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তা না হলে মাদক বিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপই আর্থিক সংকটে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে দ্রুত সরকারি অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান বলেন, ‘ডোপ টেস্ট চালু হওয়ার পর থেকেই জেলাজুড়ে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে ডোপ টেস্ট করানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি পরীক্ষায় খরচ হচ্ছে ৯৫০ টাকা। কিন্তু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। সামনে নিয়মিতভাবে ডোপ টেস্ট চালিয়ে যেতে হলে প্রতিটি পরীক্ষার খরচ যদি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের বহন করতে হয়,তাহলে বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ডোপ টেস্টের জন্য যদি সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয় অথবা হাসপাতালে বিনামূল্যে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা যায়,তাহলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। এতে মামলার সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরাও আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারবেন।’

নিউজে সর্বশেষ

সাবেক ওসি নারীসহ আরেক স্ত্রী’র কাছে ধরা; দাবী তালাকের, কাগজ পাননি স্ত্রী

চার দিন আগে স্ত্রী আন্নি আক্তারকে তালাক দেওয়ার দাবি করেছেন রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বর্তমানে ...

মাদক ও জুয়ামুক্ত ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যে ধানদিয়ায় ফুটবল বিতরণ।

৯টি ওয়ার্ডে ১৩টি ফুটবল বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা গাজী মামুনূর রশীদ মাদক ও জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে তরুণ সমাজকে ...

সরকারি কর্মচারী নিজের চাকরির বিষয়ে কাউকে দিয়ে তদবির করালে বিভাগীয় ব্যবস্থা

কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে কাউকে দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে ওই কর্মচারীর (আইনানুযায়ী কর্মকর্তারাও কর্মচারী) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া ...

এত স্কুল, এত পরীক্ষা, এত সার্টিফিকেট। কিন্তু এত কিছুর ভিড়ে সত্যিকারের শিক্ষাটা আসলে কোথায়? অথচ উচিত ছিল পরীক্ষার জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মকে পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করা।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, #মহান_শিক্ষা_দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রাজপথে রক্ত দিয়েছিলেন মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ অনেকে। সেই ঘটনার ...

Showing Slide 1 of 5