শিরোনাম

** কুমিল্লায় অপ্রতিম আইফোন উদ্ধার, হত্যার ঘটনায় আটক ৩ | ** জিপিএফের ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, বরখাস্ত ৬ | ** মোবাইল ফোনের জন্যই অপ্রতীমকে হত্যা: পুলিশ | ** সরকারি প্রশিক্ষনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা | ** প্রতীক্ষার অবসান। ৯ম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করলো সরকার | ** দিল্লীতে শেখ হাসিনার বৈঠক, যে নির্দেশনা পেলেন শীর্ষ নেতারা | ** মাদক ও জুয়ামুক্ত ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যে ধানদিয়ায় ফুটবল বিতরণ। | ** সাবেক ওসি নারীসহ আরেক স্ত্রী’র কাছে ধরা; দাবী তালাকের, কাগজ পাননি স্ত্রী | ** সরকারি কর্মচারী নিজের চাকরির বিষয়ে কাউকে দিয়ে তদবির করালে বিভাগীয় ব্যবস্থা | ** ৩০ বছরের ট্রেন ৮ বছরেই মর্গে! সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে নেই দায়িত্বশীলতা। | ** বিশ্বজয়ী কুরআন হাফেজদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ | ** অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প |

এক মাসেও এল না ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেপথ্যে কী

image_print
image_print

দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন বিদায়ের বার্তা। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের নাম পৌঁছেছিল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। তাঁর সঙ্গে বর্তমান দুই শীর্ষ নেতার দেখা করার পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথা ছিল; কিন্তু এরপর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঘোষণা আসেনি।

শেষ মুহূর্তে কী কারণে আটকে গেল ছাত্রদলের নতুন কমিটি? বিএনপি, ছাত্রদলসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিবেচনা শুরু হয়েছে। অপেক্ষাকৃত তরুণদের সামনে আনা হবে, নাকি দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকা অভিজ্ঞ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে—মূল আলোচনা এখন তা নিয়েই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া থেমে নেই। তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে নেতৃত্ব গঠনের চেষ্টা চলছে। এর সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সংগঠনের ফল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা।

শেষ মুহূর্তে যে পরামর্শ

নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার পরপরই নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল। প্রথমে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছিল।

কিন্তু এরপর সরকারে থাকা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন–জি’ শিক্ষার্থীদের মানসিকতা, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে নেতৃত্ব গঠনের পরামর্শ দেন।

সূত্রটির ভাষ্য, এরপর সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনা এবং দীর্ঘদিন আন্দোলন–সংগ্রামে থাকা অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন মত আসে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কে হবেন, সেটি তারেক রহমান মোটামুটি ঠিক করে রেখেছেন। মূল বিবেচনা এখন সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য শীর্ষ পদগুলো নিয়ে। অভিজ্ঞতা, আন্দোলনে ভূমিকা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিন বিষয় মিলিয়ে নেতৃত্ব সাজানোর চেষ্টা চলছে।

তবে অন্য সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ দুই পদে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। কোন পদে কাকে রাখা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তরুণ না অভিজ্ঞ, নাকি দুইয়ের সমন্বয়

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বলেছে, দলের শীর্ষ পর্যায়ে ছাত্রদলকে আরও তারুণ্যনির্ভর করার পক্ষে মত রয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে অপেক্ষাকৃত পুরোনো শিক্ষাবর্ষের নেতাদের প্রাধান্য নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনাও আছে।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেতৃত্বের বয়স ও শিক্ষাজীবনের ব্যবধান কমানো এবং নতুন প্রজন্মের ভাষা ও প্রত্যাশা বোঝার জন্য অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের সামনে আনার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

তবে তারেক রহমান যাঁদের পরামর্শ নিয়েছেন, তাঁদের সবাই এই মতের সঙ্গে একমত নন। সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র বলেছে, গত ১৫ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠে থাকা নেতাদের একটি অংশ মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। ছাত্রলীগকে মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে। ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কৌশল সম্পর্কেও তাঁরা জানেন। এই নেতাদের পুরোপুরি বাদ দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব তুলনামূলক জুনিয়রদের হাতে দেওয়া ঠিক হবে না—এমন মতও তারেক রহমানের কাছে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই অবস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। শীর্ষ দুই পদে একজন তুলনামূলক সিনিয়র ও আরেকজন জুনিয়র নেতাকে রাখার চিন্তা রয়েছে। সিনিয়র নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তবে ‘সিনিয়র’ ও ‘জুনিয়র’ বলতে ঠিক কোন শিক্ষাবর্ষ বোঝানো হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শীর্ষ পদে আগ্রহীদের মধ্যে ২০০৮–০৯, ২০০৯–১০ ও ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেমন রয়েছেন, তেমনি ২০১৪–১৫ ও ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষেরও অনেকে আছেন।

বিবেচনায় ক্যাম্পাসের ভোটও

ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনকে শুধু কমিটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে সংগঠনের ফলও নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের আলোচনায় এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্রার্থীরা ভালো ফল করেছেন। সেই তুলনায় ছাত্রদলের ফল ছিল দুর্বল। ফলে আগামী ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে সংগঠন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একটি সূত্র বলেছে, এমন নেতৃত্ব আনার পক্ষে মত এসেছে, যাঁরা শুধু দলীয় কর্মসূচিতে নেতা–কর্মীদের সক্রিয় রাখবেন না; সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছেও সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারবেন।

নিউজে সর্বশেষ

কুমিল্লায় অপ্রতিম আইফোন উদ্ধার, হত্যার ঘটনায় আটক ৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে ...

প্রবাসী স্বামীর অর্থে পড়াশোনা, সরকারি চাকরি পেয়েই তালাক দিলেন স্ত্রী

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্বামীর অর্থে পড়াশোনা ও ঢাকায় থেকে প্রায় চার বছর বিশেষ কোচিং করার পর সরকারি চাকরি পাওয়ার সাত মাসের ...

জিপিএফের ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, বরখাস্ত ৬

  বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় সরকারি কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে চারজন সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ ...

​মোংলা বন্দর: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ, পশুর নদীর ঐতিহাসিক বাধা নিরসন ও বৈশ্বিক মডেল অনুসরণে টেকসই ভবিষ্যৎ

​মোংলা বন্দর: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ, পশুর নদীর ঐতিহাসিক বাধা নিরসন ও বৈশ্বিক মডেল অনুসরণে টেকসই ভবিষ্যৎ ​১. ভূমিকা ও প্রস্তাবনা ...

Showing Slide 1 of 5