কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তিন কর্মকর্তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে রাজধানীর খামারবাড়িতে পোস্টার লাগানো হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ডিএইর প্রধান কার্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন দেয়াল ও পিলারে এসব পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে তিন কর্মকর্তার ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
ডিএইর প্রবেশপথ, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন থেকে অধিদপ্তরের প্রধান ফটক পর্যন্ত বিভিন্ন দেয়াল ও পিলারে পোস্টারগুলো দেখা যায়। জাতীয়তাবাদী সচেতন কৃষিবিদ সমাজের ব্যানারে সাঁটানো পোস্টারে সাখাওয়াত হোসেন (উপপরিচালক-প্লানিং), মুরাদুল হাসান (উপ-পরিচালক-প্রশাসন) ও তালহা জুবায়ের মাশরুরকে (পিডি টিস্যু কালচার প্রজেক্ট) ফ্যাস্টিস্টের দোসর আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সেক্টর রক্ষার্থে তাদের অপসারণও দাবি করা হয়েছে পোস্টারে।
পোস্টারে সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে বলা হয়, তিনি কখনোই ছাত্রদল এবং বিএনপিপন্থী পেশাজীবি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। ফ্যাসিস্ট সরকারে আস্থাভাজন হওয়ায় আওয়ামী আমলে এনএটিপি’র মতো বৃহৎ প্রকল্পের পিডি হয়েছিলেন।
এতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টের পতনের পর ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে জামায়াতপন্থী এবং বর্তমানে নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সব টেন্ডার ও আওয়ামী ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেই সাথে নিয়ন্ত্রণ করছেন গুরুত্বপূর্ণ বদলি ও পদায়ন।
মুরাদুল হাসান সম্পর্কে পোস্টারে লেখা হয়েছে, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর সময়ে জামায়াতপন্থী কৃষিবিধ ফোরামে যোগদানকারী। বিগত ফ্যাসিস্টের আমলে সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরকে সোনার নৌকা উপহারদাতা।
আরও বলা হয়, যার বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে কোন ভূমিকা ছিলনা। অথচ তিনিই এখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সব বদলি ও গুরুত্বপূর্ন পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করছেন।
তালহা জুবায়ের মাশরুর সম্পর্কে বলা হয়, মাহবুবুল আলম হানিফ ও ড. রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। ৪ আগষ্ট শান্তি মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ও অর্থদাতা, বিগত সময়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের সম্পর্কে ফেসবুকে বিরুপ মন্তব্যকারী।
তার সম্পর্কে আরও বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন ফেসবুকে গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশকারী কর্মকর্তা এখন একাধিক প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
পোস্টারে ছবি থাকা কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি সরকারি চাকরি করেন এবং তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। সরকার যে নির্দেশনা দেয়, তিনি তা পালন করেন। সরকার যেখানে বদলি করবে, সেখানেই যাবেন। তবে তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ছবি ব্যবহার করে পোস্টার লাগানো ন্যক্কারজনক।
এমএম/এসজাবা






