লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে সেই লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আজকের সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে বিভাগীয় সমাবেশ। সারাদেশ আমরা ঘুরেছি। মানুষের একই দাবি- ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনারা উভয়ে ভোট চেয়েছেন। সরকারি দল ভোট চেয়েছে, বিরোধী দল ভোট চেয়েছে, আমাদেরকে ভোট দিতে বলেছেন-আমরা ভোটে বিজয়ী করে দিয়েছি। এখন আমাদের ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এখন কোনো ধানাই-পানাই মানি না। ’গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন ইনশাআল্লাহ সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। আমরা দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি- এখন যারা সরকার গঠন করেছেন, তারাও মজলুম ছিলেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন। সেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে তারা জাতীয়করণ করতে যাচ্ছেন; আমরা মানব না, আমরা মানব না। হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি ফ্যাসিবাদ আপনারা কায়েম করেন আপনাদেরকেও জনগণ তাড়াবে, আপনাদেরকেও জনগণ ছেড়ে কথা বলবে না।
জামায়াত আমির বলেন, ভালোই ভালোই আপনারা মেনে নিন। যদি না মানেন তাহলে ইনশাল্লাহ এ দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ববরণ করে, গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কীভাবে হাঁটতে হয়। আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করব না। জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করব না। ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বেইমানি করব না। আমরা কথা রাখব ইনশাআল্লাহ। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব ইনশাআল্লাহ।
সমাবেশ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তা উপেক্ষা করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
এর আগে, সকাল থেকেই সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
সিলেটের সমাবেশে বিভাগের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য, অবকাঠামোগত বঞ্চনা এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও জোটের নেতারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।






