গণতন্ত্রের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল। এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগামীকাল ১৫ আগস্ট শনিবার সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়া দেশব্যাপী বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এসব মাহফিলে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অগণিত ভক্ত, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। ওইদিন ভোর ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন); মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
সেদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, গণতন্ত্রের মা, জাতির অভিভাবক তাঁদের ছেড়ে চলে গেছেন—এমন সংবাদ নিয়ে দাঁড়াতে হবে তা তিনি ভাবেননি।
মৃত্যুর সময় তাঁর শয্যাপাশে ছিলেন জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।
এ ছাড়া ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তাঁর স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরাও শেষ সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তাঁর। হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গত বছর ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করে। আগস্ট মাসের শুরুতে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তা আর সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পাওয়া বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে চরম পর্যায়ের নির্যাতন সয়েছেন, সয়েছেন স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর শোক ও দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা। মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনা ও নিষ্ঠুরতারও শিকার হয়েছেন তিনি।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার আদি বাড়ি ফেনীতে। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৬০ সালে বিয়ে করেন জিয়াউর রহমানকে।
জিয়াউর রহমান বীর উত্তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ফার্স্ট লেডি হিসেবে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন বেগম জিয়া, এ সময় সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ও নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।
১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চে ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন।
নির্বাচনী রাজনীতিতেও তাঁর অনন্য এক রেকর্ড রয়েছে—তিনি কখনো কোনো আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি, আর ২০০৮ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই জয়ী হন।
সূত্র : বাসস
- এমএম/এসজাবা






