শিরোনাম

** বিশ্বজয়ী কুরআন হাফেজদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ | ** অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প | ** নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে নুসরাত ফারিয়া | ** কিশোর গ্যাং দমনে মোহাম্মদপুরে হচ্ছে ৩ থানা: ববি হাজ্জাজ | ** নতুন নেতৃত্ব প্রায় চূড়ান্ত, কার ভাগ্যে কোন পদ? | ** গার্মেন্টস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় সাতজনের যাবজ্জীবন | ** দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান | ** আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প পুনরুদ্ধারে নতুন করে খুলনাকে গড়তে হবে: হুইপ বকুল | ** অন্য দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে -শি জিনপিং | ** উদ্বোধনী দিনেই কার্ডের প্রণোদনা পাচ্ছেন লক্ষাধিক কৃষক: কৃষিমন্ত্রী | ** সিএমএইচে আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের পাশে প্রধানমন্ত্রী | ** চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’ নাচে বাজিমাত ক্যাটরিনার |
  • আপনার ভাবনা
  • খেলাপি ঋণ নিয়ে বিএনপিকে অন্যায় আক্রমণ করা হয়েছে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়েও ‘ফ্যাকটচুয়ালি কারেক্ট’ নয় এমন আক্রমণে পড়েছে দলটি।

খেলাপি ঋণ নিয়ে বিএনপিকে অন্যায় আক্রমণ করা হয়েছে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়েও ‘ফ্যাকটচুয়ালি কারেক্ট’ নয় এমন আক্রমণে পড়েছে দলটি।

image_print
image_print

বিপ্লবী সময়ের রাজনীতিতে কিছু কথ্য রেটরিক এরকম আছে যে,
১। প্রেমিক চাকরি পাচ্ছে না। প্রেমিক পাল্টিও না। বরং সরকার পালটাও!
২। রাস্তার ক্ষুধার্থ ভিক্ষুককে খাবার দিও না, তাকে খাদ্য গুদাম দেখিয়ে দাও, খাদ্য গুদাম লুট শিখাও!
৩। কৃষক সার পাচ্ছে না, কৃষককে সারের গোডাউন লুট করতে সাহায্য করো!

বাংলাদেশে একটা গণ অভ্যুত্থান হয়েছে। এটাকে অনেকেই বিপ্লব বলেন না। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে দেশে বিপ্লবের উপাদান যে আছে, সেটার জানান দিতে সত্যি সত্যি কৃত্তিম মজুদজাত সংকটে সারের গুদাম লুটের বড়ো ঘটনা ঘটেছে। এসব সাইন/সংকেত একনলেজ করা জরুরি।

মূল আলোচনায় আসি।

পলিটিকাল রাটোরিক ব্যবহার করে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য পলিটিক্যালি কারেক্ট হতে পারে। কিন্তু এখানে ফ্যাকটচুয়াল কারেন্টনেস থাকে কিনা সেটাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করি। অন্তত সংসদ সদস্যদের বেলায়।

১। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার কয়েকমাস আগে (সংশোধনী দেওয়া হল) বাংলাদেশে প্রথমবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, টিআইবি সুস্পষ্টভাবেই জানিয়েছিল ধারণা সূচকের সার্ভে ডেটাটা আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাসীন সময়ের। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতাকালীন সময়ে যে সন্ত্রাস, অপব্যবস্থাপনা ও মহাদুর্নীতি করেছে তার ফল হিসাবে তাদের শেষ বছরে, বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

(TIB clarified that Bangladesh was first included in the CPI in 2001, when it ranked lowest among all surveyed countries. At the time, the government was led by the Awami League. The country remained at the bottom of the index for four consecutive years until 2005, during which the BNP-led four-party alliance was in power from 2002 to 2005. TDS)

ফলে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করার দায় বিএনপিকে দেয়াটা অন্যায়।

বিএনপি’র ব্যর্থতা এই যে, পরবর্তী চার বছর (বিএনপি সরকারের প্রথম চার বছর) সেটা কন্টিনিউ ছিল। কিন্তু এটাও সত্য সেই চার বছরে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান থাকলেও স্কোর ধীরে ধীরে ভালো হয়েছিল। অন্যরা আমাদের চেয়ে বেশি ভালো করেছে, তাই আমাদের পজিশন চেঞ্জ হয়নি।

এখানে নিজের বইয়ের লেখার একটা রেফারেন্স দিতেই হয়। ২০০৫ সালে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৬ তম, এই অবস্থানটি পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সময়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে ১৬৮ তম স্থানে পৌঁছেছিল।

উপরন্ত ২০০১-০৫ সময়ে অতি সময়ক্ষেপণে ও সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি উল্লেখযোগ্য বড় কোনো মেগা প্রকল্প করতে পারেনি। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম সরাসরি রেল, বড় কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ইত্যাদি কাজে বিএনপি অদূরদর্শিতা দেখিয়েছিল।

এ সময় ওরিয়ন ব্যাংক কেলেঙ্কারি ছাড়া বড় কোন ধরনের ব্যাংক কেলেঙ্কারিও হয়নি। তাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্ণর ড সালেহ উদ্দীন বোর্ড টেকওভার করেছেন। এর ফলে ঐ আমলে বিএনপি মেগা মেগা দুর্নীতি করেছে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ ফ্যাকচুয়ালি প্রতিষ্ঠিত হয় না। হ্যাঁ এ সময় ঘুষ তদবির ও নিয়োগ-বাণিজ্য ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে জন্য দুর্নীতির ধারণা সূচকে অন্যান্য দেশের অগ্রগতি বেশি ছিল তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি কম ছিল, ফলে বাংলাদেশ সূচকে কিছুটা ভালো করেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পজিশন অতিক্রম করতে পারেনি।

২। খেলাপি ঋণ নিয়ে যে আক্রমণটা হয়েছে, সেটা বিএনপি একেবারেই ডিজার্ভ করে না।

আওয়ামী লীগ খেলাপি ঋণের তথ্য লুকিয়ে কম দেখাতো। একেবারে প্রতিষ্ঠিত সত্য। অন্তবর্তীকালীন সরকার তথ্য জালিয়াতি বন্ধের উদ্যোগ নিলে খেলাপি ঋণের অংক বলগাহীন ভাবে বেড়ে যেতে শুরু করে।

২০২৪ সালের জুনের শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে দৃশ্যমান খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিলীকরণ, বিশেষ ছাড়, মামলা ও গোপন হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ খেলাপির তথ্য ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল, এ নিয়ে আইএমএফ রিপোর্ট আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (AQR) শুরু হলে লুকানো ঋণের আসল তথ্য প্রকাশ্যে আসে এবং খেলাপি ঋণ বেড়ে ৫ লক্ষ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি (ডিসেম্বর ২০২৫) ও ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা (মার্চ ২০২৬) হয়। অর্থাৎ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ, মামলা ও বিচারাধীন ঋণ, তফসিল ও পুনঃতফসিল কৃত ঋণ এবং দেখানো খেলাপি ঋণ মিলে যে প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকার যে সংখ্যাটা বর্তমানে দেখায়, এটা বিএনপি আমলের ইল্ড না। সঠিক সংখ্যা উপস্থাপনের কারণে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণ দেখাচ্ছে, বাস্তবে এটা ধীরে ধীরে ৬ লক্ষ থেকে ১১ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছবে। হ্যাঁ বিএনপির বেশকিছু সংসদ সদস্য আছেন ঋণ খেলাপি। কিন্তু আওয়ামী অপরাধের দায় বিএনপির উপর দেওয়া একদিকে অন্যায়, অন্যদিকে প্রাক্টিক্যালি ফ্যাক্টচুয়াল ইনকারেক্টনেস।

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ২০০১-২০০৬ এ খেলাপি ঋণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকা কমেছিল।

 

৩। সার সংকটের বিষয়টা নিয়ে আমি বিএনপিকে খুব সিরিয়াস হতে অনুরোধ করব। কৃষকরা বাড়তি টাকা ছাড়া সার পাচ্ছেন না।

দেখুন ১৯৭৪ সাল কৃষি উৎপাদনের জন্য একটা ভালো বছর ছিল, আগের বছর গুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান এবং গম উৎপাদিত হয়েছিল, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেভাবে হয়নি। কিন্তু সেবছর দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বন্টনের অপব্যবস্থাপনা এবং মজুদদারের কারণে, শস্য পাচারের কারণে। তাই বিএনপিকে স্যার সংকটে অবশ্যই সিরিয়াস হতে হবে, কৃষিমন্ত্রী সংসদে ভালো ভালো কথা বলছেন, কিন্তু সার বন্টন ব্যবস্থাপনায় উনার কোন সাফল্য নেই। তৃণমূলে কৃষককে সার পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে।

এখন,
ফেকচুয়ালি ইনকারেক্ট থাকা সত্ত্বেও পলিটিক্যাল রিটারিকপূর্ণ বক্তব্য কিন্তু সমাজে বেশ ভালোভাবেই রিসিভ হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে খালাপি ঋণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ, ভাইবার নাম্বার বাড়ানো, ব্যাংকে পুরানা মালিকানা ফেরানো, চাঁদাবাজি, বিদ্যুৎ সংকট ইত্যাদিতে রাইট ইনটেনশন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সরকার। সরকারের ‘কোর্স অফ একশনের’ ডিরেকশন রাইট হয়নি। সমাজে ভুল বার্তা পৌঁছেছে, ফলে অন্যায় আক্রমণে হাততালি নিচ্ছে কেউ কেউ।

সমস্যা সমাধানে সফল না হলেও, ইন্টেনশন ঠিক থাকলে, মানুষের মধ্যে ধৈর্য-সহ্য বাড়ে, মানুষ সরকারকে বেশি সময় ও ছাড় দেয়, দিতে প্রস্তুত থাকে।

বিএনপি ভালো ভালো আইন বাদ দিয়েছে। অনেক ধারা সংশোধন করে পেছনে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮ক ধারায় একটা ব্যাড-ইনটেনশনের নজির রেখেছে। সার ব্যবস্থা সঠিক হচ্ছে না। একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দলীয় নিয়োগ কিংবা ভাইভার মত বিষয় সামনে এনে দুর্নীতি প্রশ্নে একটা অনেস্ট-ইনটেনশন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

গণঅভ্যুত্থানের পরে সমাজ এখনও সজাগ। আইনি সংস্কার সহ, প্রতিটা কাজে গুড ইন্টেনশনের ট্রেস রাখুন, তাইলে সমাজে ভাল বার্তা যাবে। নাইলে মানুষ বাইনারি পলিটিক্সে আপনাকে শুরুতে আক্রমণ করবে, পরে করবে ঘায়েল।

ফ্যাক্টের চেয়ে ন্যারেটিভ বেশি ছড়াবে। সাদাকালোর জেনারালাইজড বয়ান ছড়াবে যে, ও এটা আর নতুন কি, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তো এগুলা সংকটই হয়!

ফয়েজ আহমদ তৈয়ব
আইসিটি উপদেষ্টা, ড. মুঃ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার

নিউজে সর্বশেষ

ভূমি কর্মকর্তাদের নজরদারি করবে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ

মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে নতুন একটি অ্যাপ চালু করেছে ভূমি ...

৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে ...

বিসিক কার্যালয় থেকেই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে, কারা পাবেন

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ ...

কিছু অভ্যাসে সত্তরেও থাকবেন সুস্থ

বয়স ৩০ থেকেই কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বয়স সত্তরে এসেও সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সম্ভব। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ...

Showing Slide 1 of 5