শিরোনাম

** বিশ্বজয়ী কুরআন হাফেজদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ | ** অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প | ** নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে নুসরাত ফারিয়া | ** কিশোর গ্যাং দমনে মোহাম্মদপুরে হচ্ছে ৩ থানা: ববি হাজ্জাজ | ** নতুন নেতৃত্ব প্রায় চূড়ান্ত, কার ভাগ্যে কোন পদ? | ** গার্মেন্টস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় সাতজনের যাবজ্জীবন | ** দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান | ** আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প পুনরুদ্ধারে নতুন করে খুলনাকে গড়তে হবে: হুইপ বকুল | ** অন্য দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে -শি জিনপিং | ** উদ্বোধনী দিনেই কার্ডের প্রণোদনা পাচ্ছেন লক্ষাধিক কৃষক: কৃষিমন্ত্রী | ** সিএমএইচে আহত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনের পাশে প্রধানমন্ত্রী | ** চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’ নাচে বাজিমাত ক্যাটরিনার |
  • আপনার ভাবনা
  • সংকট থেকে স্থায়ী সমাধানে ডেংগু মোকাবিলায় বাংলাদেশ: ঢাকা, খুলনা ও জাতীয় প্রেক্ষিত, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বব্যাপী সফল মডেলের আলোকে কৌশলগত রূপরেখা

সংকট থেকে স্থায়ী সমাধানে ডেংগু মোকাবিলায় বাংলাদেশ: ঢাকা, খুলনা ও জাতীয় প্রেক্ষিত, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বব্যাপী সফল মডেলের আলোকে কৌশলগত রূপরেখা

image_print
image_print

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতে ডেংগু এখন আর কোনো মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং এটি এক চিরস্থায়ী এবং ক্রমবর্ধিষ্ণু মহামারীতে রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসার সাথে সাথেই রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে খুলনা, চট্টগ্রাম এবং দেশের দূরবর্তী জেলাগুলোতে ডেংগু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করে। পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে এডিস মশার প্রজনন মৌসুম এবং বিস্তারের ধরণে লক্ষণীয় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে শুধুমাত্র বর্ষাকালেই নয়, বছরের প্রায় প্রতিটি মাসেই ডেংগু আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলছে। এই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদী, বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা।
​ঢাকা বাংলাদেশের ডেংগু প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রীয় উপকেন্দ্র হলেও বিগত কয়েক বছরে খুলনা বিভাগসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেংগুর বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনা বিভাগের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে জলাবদ্ধতা, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং নগর ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঢাকা নগরীর ঘনবসতি, বহুতল ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন যেমন এডিসের অভয়ারণ্য তৈরি করেছে, তেমনি মফস্বল শহর ও গ্রামীণ এলাকায় মশার উপযুক্ত চিকিৎসার অপ্রতুলতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। খুলনা অঞ্চলে ডেংগু সংক্রমণের হার বৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় জলাবদ্ধতা এবং কার্যকর মশক নিধন অভিযানের অভাব মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
​আধুনিক ডেংগু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও সঠিক প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণ। ডেংগু ভাইরাস মূলত মানুষের রক্তনালীর স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্লাজমা লিকেজ ঘটে এবং রোগীর রক্তচাপ কমে গিয়ে শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়। আধুনিক চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী, ডেংগু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে শুরুতেই অ্যান্টিবায়োটিকের অনাবশ্যক প্রয়োগ বন্ধ রাখা এবং ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট বা তরল ব্যবস্থাপনাকে বৈজ্ঞানিক নিয়মে পরিচালনা করা অপরিহার্য। এনএস-১ (NS1) অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দিনেই ডেংগু সনাক্তকরণ এবং রক্তের প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিট গণনার মাধ্যমে রোগীর অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। আধুনিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসায় শকে চলে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত সঠিক মাত্রার ক্রিস্টালয়েড এবং কোলয়েড ফ্লুইড প্রয়োগ করে রক্তের সংবহনতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখা হয়, যা মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।
​বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ডেংগু নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একাধিক বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতি ব্যবহার করে সাফল্য অর্জন করেছে। সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে ‘উলবাকিয়া’ (Wolbachia) ব্যাকটেরিয়াবাহী মশা ছাড়ার পদ্ধতি। উলবাকিয়া সংক্রামিত পুরুষ মশা যখন বুনো স্ত্রী মশার সাথে প্রজনন করে, তখন ডিম থেকে ছানা বের হয় না অথবা নতুন মশাতে ডেংগু ভাইরাস বিস্তারের ক্ষমতা থাকে না। ব্রাজিলে জেনেটিক্যালি মডিফাইড বা কৃত্রিমভাবে রূপান্তরিত মশা ছেড়ে এডিসের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মডেল কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি, আধুনিক ‘ডেংভ্যাক্সিয়া’ (Dengvaxia) এবং ‘কিউডেঙ্গা’ (Qdenga) টিকা ব্যবহারের মাধ্যমে যেসব অঞ্চলে ডেংগুর প্রাদুর্ভাব বেশি, সেখানে জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সমন্বিত ভেক্টর ব্যবস্থাপনা এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে লার্ভা প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
​ডেংগু দূরীকরণে কোনো একক বা সাময়িক সমাধান কার্যকর নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই সমন্বিত উদ্যোগ। সার্বিক জনস্বাস্থ্য অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিকভাবে সচল রাখাই এর স্থায়ী ভিত্তিমূল। ড্রেন ও জমে থাকা পানিতে প্রতিনিয়ত জৈবিক লার্ভিসাইড (যেমন- BTI) প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যা কেবল মশার লার্ভাকে ধ্বংস করে কিন্তু পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না। প্রতিটা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ বা এন্টোমোলজিস্ট নিয়োগ দিয়ে এডিস মশার ঘনত্বের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো জরুরি।
​ডেংগু মোকাবিলায় সরকার এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে পালনীয় দায়িত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট। সরকার ও স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষগুলোর প্রাথমিক দায়িত্ব হলো স্বচ্ছ ও কার্যকর ওষুধ ছিটানো নিশ্চিত করা এবং মশক নিধন অভিযানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা। শহরের জলবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে ডেংগু ডেডিকেটেড ওয়ার্ড ও পর্যাপ্ত ডেংগু কিট সরবরাহ বজায় রাখা সরকারের প্রধান কর্তব্য। একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে ডেংগু সচেতনতামূলক প্রচার চালানো আবশ্যক।
​জনসাধারণের করণীয় হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের বাড়ি, উঠান, ছাদ এবং ব্যালকনি পর্যবেক্ষণ করে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি তিন দিনের বেশি রাখা যাবে না। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারির ব্যবহার সুনিশ্চিত করা এবং শরীরের উন্মুক্ত অংশে মশানিরোধক ক্রিম বা তেল ব্যবহার করা উচিত। জ্বর হলেই অবহেলা না করে দ্রুত ডেংগু পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিরেকে কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসংগঠনের যৌথ প্রচেষ্টাই বাংলাদেশকে ডেংগুর মহামারী থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে পারে।

 

লেখক: প্রেসিডেন্ট গ্লোবাল খুলনা

শাহ মামুনুর রহমান তুহিন
+8801711903757
shahmamunurrahmantuhin@gmail.com

নিউজে সর্বশেষ

ভূমি কর্মকর্তাদের নজরদারি করবে ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ

মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে নতুন একটি অ্যাপ চালু করেছে ভূমি ...

৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

৫৯ লাখ সুবিধাভোগীকে টিসিবি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে ...

বিসিক কার্যালয় থেকেই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে, কারা পাবেন

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ ...

কিছু অভ্যাসে সত্তরেও থাকবেন সুস্থ

বয়স ৩০ থেকেই কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বয়স সত্তরে এসেও সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সম্ভব। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ...

Showing Slide 1 of 5