শিরোনাম

** সরকারি কর্মচারী নিজের চাকরির বিষয়ে কাউকে দিয়ে তদবির করালে বিভাগীয় ব্যবস্থা | ** ৩০ বছরের ট্রেন ৮ বছরেই মর্গে! সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে নেই দায়িত্বশীলতা। | ** বিশ্বজয়ী কুরআন হাফেজদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ | ** অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প | ** নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে নুসরাত ফারিয়া | ** কিশোর গ্যাং দমনে মোহাম্মদপুরে হচ্ছে ৩ থানা: ববি হাজ্জাজ | ** নতুন নেতৃত্ব প্রায় চূড়ান্ত, কার ভাগ্যে কোন পদ? | ** গার্মেন্টস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় সাতজনের যাবজ্জীবন | ** দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে ১৮ প্রতিষ্ঠান | ** আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শিল্প পুনরুদ্ধারে নতুন করে খুলনাকে গড়তে হবে: হুইপ বকুল | ** অন্য দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে -শি জিনপিং | ** উদ্বোধনী দিনেই কার্ডের প্রণোদনা পাচ্ছেন লক্ষাধিক কৃষক: কৃষিমন্ত্রী |

বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের রাজনীতি, ভোটের সমীকরণে নতুন হিসাব

image_print
image_print

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও কাণ্ডের পর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী থেকে তার বহিষ্কারের পর সম্ভাব্য উপনির্বাচন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং ভোটের মাঠে এর প্রভাব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

ভিডিও প্রকাশের পর প্রথমে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছিলেন গাজী নজরুল ইসলামের সমর্থকরা। পরে তিনি ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দাবি করেন। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাকে পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্র বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি। ভিডিও, বিয়ে সংক্রান্ত তথ্য, বিভিন্ন নথি ও বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছিলেন ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট ব্যবধান ছিল ২১ হাজার ৪৮৭।

সংসদ সদস্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, এ আসনে উপনির্বাচন হবে কিনা। তবে আইনগতভাবে শুধু দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয় না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম বিপ্লব হোসেন বলেন, দলীয় বহিষ্কার একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত; কিন্তু সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি সংবিধান ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নথিভুক্ত করতে পারে। তবে শুধু বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য ঘোষণা করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। এ বিষয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শ্যামনগর ও কালীগঞ্জের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে জাতীয় রাজনীতির এ ঘটনাকে ঘিরে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদ সদস্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটের মাঠেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলীয় ভাবমূর্তি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

শ্যামনগর পৌর শহরের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত আচরণ ও ভাবমূর্তি এখন সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দিয়ে দেখে। এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে আলোচনা তৈরি করে।

কালীগঞ্জের মুদি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, মানুষ এখন দল দেখার পাশাপাশি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও সততাকেও গুরুত্ব দেয়। শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

তবে জামায়াত সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন, একজন ব্যক্তির ঘটনায় পুরো সংগঠনকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তাদের দাবি, দল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আসন শূন্য হয় এবং দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। তবে সিদ্ধান্ত জনগণের।

তিনি আরও বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করবেন।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, এ ঘটনায় জামায়াত রাজনৈতিকভাবে সংকটে পড়েছে। আগামী নির্বাচনগুলোতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। নির্বাচন হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা মাঠে কাজ করব।

এদিকে ভিডিও কাণ্ডকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে সংসদ সদস্যের পদত্যাগ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

সব মিলিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ইস্যুতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের রাজনীতি এখন নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সম্ভাব্য উপনির্বাচন এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন- দুই ক্ষেত্রেই এই বিতর্ক ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনি প্রক্রিয়া, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের মনোভাব—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে সাতক্ষীরা-৪ আসনের আগামী রাজনৈতিক গতিপথ।

@@@

নিউজে সর্বশেষ

সরকারি কর্মচারী নিজের চাকরির বিষয়ে কাউকে দিয়ে তদবির করালে বিভাগীয় ব্যবস্থা

কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে কাউকে দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে ওই কর্মচারীর (আইনানুযায়ী কর্মকর্তারাও কর্মচারী) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া ...

এত স্কুল, এত পরীক্ষা, এত সার্টিফিকেট। কিন্তু এত কিছুর ভিড়ে সত্যিকারের শিক্ষাটা আসলে কোথায়? অথচ উচিত ছিল পরীক্ষার জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মকে পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করা।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, #মহান_শিক্ষা_দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রাজপথে রক্ত দিয়েছিলেন মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ অনেকে। সেই ঘটনার ...

৩০ বছরের ট্রেন ৮ বছরেই মর্গে! সরকারি সম্পদ সংরক্ষণে নেই দায়িত্বশীলতা।

সাড়ে ছয়শ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছিল ২০টি ডেমু ট্রেন। কথা ছিল অন্তত ৩০ বছর চলবে এগুলো। কিন্তু তদারকির অভাবে ...

আলামপুর ইউপি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সেক্রেটারি দুলাল ন্যাংড়া আটক

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়ন এর স্বস্তিপুর ১নম্বর ওয়ার্ড এর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি দুলাল সর্দার(ন্যাংড়া) আজ রাত আনুমানিক ৩:২০ মিনিটে ...

Showing Slide 1 of 5