খামারিদের ভাগ্যোন্নয়নের সঙ্গে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন সরাসরি জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, খামারিরা উন্নত হলে দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এ খাতের উৎপাদন বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও সুযোগ রয়েছে। এজন্য খামারিদের উৎপাদনমুখী করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন খামারি শুধু নিজের পরিবারের কর্মসংস্থান করেন না; তার সঙ্গে আরও অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই খামারিদের টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন খরচ, ঋণ সুবিধা, পশুর চিকিৎসা ও বাজারজাতকরণসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের সঙ্গে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিম্নমানের মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য ব্যবহারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদীরা পলায়ন করেছে এবং তারা বিদেশে বসে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। এ দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে।
মাদককে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দিন কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান, পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি খামারিদের মাঝে গবাদিপশু বিতরণ করেন। গবাদিপশু বিতরণকালে খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ, পশুর যথাযথ পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- জাগরণবার্তা -জী.এম.আর-০১১






